নন্দীগ্রাম: ১২ বছর পর নন্দীগ্রামে সিপিএমের পার্টি অফিসের তালা খুলেছিল৷ তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের বন্ধ হয়ে গেল অফিস৷ কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা নয়, সিপিএমের পার্টি অফিস বন্ধ করলেন নন্দীগ্রামের শহিদ পরিরারের লোকেরা৷

লোকসভা নির্বাচন আসতেই নন্দীগ্রামে ১২ বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা দলীয় কার্যালয় রবিবার খুলেছিল সিপিএম। তারপর নতুন উদ্যোগ ও উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল লাল পার্টির লোকজন৷ অফিস মুড়ে দেওয়া হয় লাল পতাকায়৷ কিন্তু পরের দিনই লাল পতাকা খুঁজে পাওয়া গেল পুকুরে৷ আর দলীয় অফিসে কালো পতাকা ঝুলতে দেখা গেল৷ খোঁজ নিতে জানা গেল, নন্দীগ্রামের শহিদ ও নিখোঁজ পরিবারের লোকেরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে৷ তারা জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম আন্দোলনে অভিযুক্তদের যতক্ষণ না শাস্তি হচ্ছে ততদিন এলাকায় পার্টি অফিস খুলতে দেওয়া হবে না৷

এলাকাবাসী সাউথখালির বাসিন্দা পলাশ গিরি জানিয়েছেন, ১৪ মার্চের ঘটনায় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর হাতে খুন হয়েছে তাঁর ভাই। এখনও বহু মানুষের খোঁজ নেই। একই ভাবে শহীদ সুব্রত সামন্তের স্ত্রী শ্রীমতি সামন্তও জানিয়েছেন, এখানে সিপিএমের দলীয় অফিস খুলতে দেওয়া হবে না। আন্দোলনকারীদের দাবি যতক্ষণ না পূরণ হচ্ছে, নিখোঁজরা বাড়ি ফিরছে এলাকায় সিপিএমের পার্টি অফিস খুলতে দেওয়া হবে না।

সোমবার আন্দোলনকারীরা পার্টি অফিসের চারদিকে লাগানো লাল পতাকা খুলে দেন। তারপর সেখানে কালো পতাকা লাগিয়ে দেন।এই বিষয়ে জানতে সিপিএমের প্রার্থী ইব্রাহিম আলীর সাথে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয়। দলীয় কর্মসূচিতে থাকায় তিনি কথা বলেননি। এই তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘মানুষের মন থকে সিপিএমের অত্যাচারের ঘটনা মুছে যায়নি। মানুষ চায় না সিপিএমকে। তা আর একবার প্রমান হল।’’

রবিবার তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থী ইব্রাহিম আলীর নেতৃত্বে নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ামোড় থেকে মিছিল করেন৷ এরপর নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের কমরেড সুকুমার সেনগুপ্ত ভবনটি খোলেন সিপিএমের সমর্থকেরা। সেই মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রবীন দেব, সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।

প্রসঙ্গত গত ২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারীর পর থেকে সিপিএমের এই অফিসটি এলাকাবাসীর আন্দোলনের চাপে বন্ধ হয়ে যায়। যদিও অফিস খুলে ইব্রাহিম আলি ও রবীন দেব দাবি করেছিলেন তৃণমূল তাদের এই অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে দখল করে রেখেছিল। এলাকার মানুষের সাহায্য নিয়ে তারা এই অফিস খোলেন। যদিও এলাকাবাসীর দাবি তারা সিপিএমের সাথে নেই। তাই কমরেড সুকুমার সেনগুপ্ত ভবন খোলার মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফের এই অফিস বন্ধ করে দেন তারা৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ