কার্গিলের যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন বাবা।  সেনা হিসেবে অনেক স্বপ্নই অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল তাঁর। আজ বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মেয়ে।

কার্গিল যুদ্ধের সময় কুমাউন সেনার জওয়ান নাইক ইন্দের রানা প্রাণ হারিয়েছিলেন। কার্গিল যুদ্ধে তিনি শহিদ হলে, তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে। ইন্দোর রাণাই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তাই তাঁর মৃত্যুর পর থেকে সমস্ত দায় ভার এসে পড়ে তাঁর স্ত্রী বিমলা রাণার উপর। পরিবারের হাল নিজের হাতে ধরে বিমলা কখনও ভেঙে পড়তে দেননি তিন সন্তানের স্বপ্ন। ইন্দর রাণা যখন মারা যান তখন বড় মেয়ের বয়স মাত্র ৬ বছর।

তখন কুমাউন ছেড়ে তারা চলে আসেন রানিখেত রেজিমেন্টাল সেন্টারে। যুদ্ধের ফলে যে মহিলারা বিধবা হয়েছেন তাদের জন্য তৈরি হোস্টেলে এসেই মাথা গোঁজেন তখন রানেরা। ইন্দরের মৃত্যুর রেশ রয়ে গেলেও, আবার নতুন ভাবে সন্তানদের গড়ে তোলা শুরু করেন বিমলা। অন্যান্য সেনারাও বিমলা ও তাঁর পরিবারকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

এরপর বড়ো মেয়ে মীনাক্ষী একটি সরকারি হিন্দি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি হয়। মীনাক্ষীর ছোটবেলা থকেই স্বপ্ন ছিল যে বড় হয়ে সেনায় যোগ দিতে হবে। কিন্তু স্বামীকে যেভাবে হারিয়েছেন, মেয়েকেও যদি সেভাবে হারাতে হয়- সেই ভেবে চিন্তিত ছিলেন বিমলা। কিন্তু সেনায় যোগ দেওয়ার জন্য মহিলাদের ইংরেজি জানাটা প্রয়োজন। হিন্দি মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী হয়েও ইংরেজি ভাষাতেও ভালো দখল ছিল মীনাক্ষীর। তাই ইংরেজিতে আরও দক্ষ হওয়ার জন্য এরপর মীনাক্ষী ইংলিশ মিডিয়াম ‘অশোক হল গার্লস আবাসিয়া স্কুল’-এ ভর্তি হয়।

মীনাক্ষীর পরীক্ষার নম্বর প্রথম থেকেই ভালো ছিল। স্কুল এবং স্নাতক শেষ করে ভারতীয় সেনার চেন্নাই এর অফিসারস ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। বিমলা এখন মেয়েকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর বিশ্বাস ভবিষ্যতে বাবার মতোই কুমাওন রেজিমেন্টে যোগ দেবেন মীনাক্ষী। বাবার থেমে যাওয়া স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম হবেন মীনাক্ষীই।