স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা ও হাওড়া: শেষবার কথা হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকালে৷ স্ত্রীকে বলেছিলেন কাশ্মীর পৌঁছে আবার ফোন করবেন৷ কিন্তু তা আর করে ওঠা হল না বছর ৩৭-এর বাবলা সাঁতরার৷ ৩৫ নং ব্যাটেলিয়ান সিআরপিএফ জওয়ান ছিলেন।

হাওড়ার বাউড়িয়া চক কাশি গ্রামের বাসিন্দা এই জওয়ানের বাড়িতে রয়েছেন বাড়িতে বিধবা মা, স্ত্রী ও চার বছর বয়সী একমাত্র কন্যা। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে পড়শুনা শেষ করেন বাবলা সাঁতরা৷ সদ্য একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন তিনি৷ ইচ্ছা ছিল অবসরের পর ছোট খাট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হবেন৷ আর ছ মাস পরে অবসর গ্রহণ করতেন। কিন্তু সে স্বপ্ন মিশে গেল বারুদের গন্ধে৷

খুব ভালো ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন। ভদ্র ভালো ছেলে হিসাবে পাড়ায় যথেষ্ট সুনাম। সান্ত্বনা জানবার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিবেশীরা। সরকারিভাবে এখনও মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে আসেনি। তবু মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না কেউ৷

দীর্ঘদিন জঙ্গলমহলে পোস্টিং ছিলেন বাবলা। সময় পেলে মাঝে মাঝে বাড়িতে আসতেন। চাকরি জীবনে প্রথম পোস্টিং ছিল কাশ্মীরে। জীবনের শেষ দিনেও শেষ হলো জীবন সেই কাশ্মীরে। গতকাল সকালে জম্মু থেকে কাশ্মীর যাবার পথে স্ত্রী মিতাকে ফোন করেছিলেন বাবলা। পরে বাবলার সহকর্মীর ফোন থেকে আসে সেই চরম সংবাদ।

স্থানীয় বাসিন্দারা কথা বলার মত অবস্থায় নেই৷ সবাই চাইছেন যোগ্য জবাব দিতে৷ এলাকার ছেলে দীপক সাঁতরা বলছেন, ‘দিনটা শুরু হয়ে ছিল লাল গোলাপ দিয়ে। শেষ হলো আমার শহিদ সেনা জওয়ানের রক্ত দিয়ে। জানি না এই কাশ্মীর সমস্যা আর কতো তাজা রক্ত গ্রাস করবে। আমার সরকারের কাছে হাত জোড় করে আবেদন করতে চাই, আর না এবার আমরা পাকিস্তানকে মান চিত্র থেকে মুছে ফেলতে চাই৷’

এই প্রতিবাদের সুর শুধু হাওড়ায় বাউড়িয়া নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে৷ বদলা চাই- এই শ্লোগান তুলে এককাট্টা হচ্ছে দেশ৷