স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: বাজারে সবজি কিনতে গিয়ে দিশেহারা হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পাইকারি বাজারে যে দামে সবজি কৃষকরা বিক্রি করছেন। তা খুচরো বাজারে পৌঁছে দাম দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের শাকসবজির বাজারের এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্ররশাসনি উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন কৃষক তথা ক্রেতা বিক্রেতারা।

সকাল হতেই বাজার অভিমুখে রওনা দেন সাধারণ মানুষ। আশায় থাকেন যে আজ হয়তো বাজারে শাক সবজির দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু সবজি বাজারে গিয়ে সাধারণ ক্রেতারা চোখে সর্ষের ফুল দেখছেন। কোনোরূপ নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি না থাকায় আলু থেকে শুরু করে পটল মুলো বেগুন সবই আকাশ ছোঁয়া। বাজারের খুচরো বিক্রেতাদের দাবি তাঁদের পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনতেই হচ্ছে বেশি দামে। অন্যদিকে গ্রামগঞ্জ থেকে কষ্টার্জিত ফসল নিয়ে হাজির কৃষকদের অভিযোগ তাঁরা নায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

পাইকারি বাজারে কোনো সবজি তিরিশ টাকা কেজি দরে কৃষকরা বিক্রি করলে পাশেই অবস্থিত খুচরো বাজারে গিয়ে সেই সবজি দ্বিগুন দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই পরিস্থিতি জারী রয়েছে বলে সকলের অভিযোগ। এব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন কৃষক ও সাধারণ ক্রেতারা।

বালুরঘাট বাজারে কেজি প্রতি সবজির দাম:
পটল_৪৫-৫০ টাকা, আলু_১৮-২০টাকা, পেঁয়াজ_৫০টাকা, ফুলকপি_৫০-৬০টাকা, কাঁচা লংকা_৮০টাকা, বেগুন_৫০-৬০টাকা, চিচিঙ্গা_৫০টাকা ও টমেটো_৮০টাকা

এব্যাপারে স্থানীয় চককাশী এলাকার কৃষক জিতেশ মন্ডল জানিয়েছেন যে তাঁরা শুধু শুনেই আসছেন যে বাজারে সব্জির অগ্নী মূল্যর কথা। কিন্তু পাইকারি বাজারে সব্জি বিক্রি করতে গিয়ে আর দাম পাচ্ছেন না। খোলা বাজারে বেগুন ৫০ থেকে ষাট টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তাঁদের বেচতে হচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। কৃষকরা ফসলের নায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকলেও তা প্রশাসনের কেউ দেখার নেই বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

এদিকে কৃষি দফতরের উপ অধিকর্তা জ্যোতির্ময় বিশ্বাস জানিয়েছেন যে প্রতিবছরই শীতের সবজির ক্ষেত্রে দাম একটু বাড়তিই থাকে। এবারও যার ব্যতিক্রম হয়নি। কারণ চাহিদার তুলনায় ফলন এই সময় অনেকটাই কম হয়। আগামী সাত দিনের মধ্যেই যোগান স্বাভাবিক হয়ে সব্জির বাজার দর অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।