স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: বনদফতরের গোপন ক্যামেরায় লালগড়ে দেখা মিলেছে বাঘের। আর সেই খবরে এবার আতঙ্ক ছড়ালো বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে। জঙ্গলমহলের গ্রামবাসীদের দাবী ঝাড়খণ্ড থেকে ওই বাঘ বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের ওপর দিয়ে সোজা পৌঁছে গিয়েছে লালগড়ের জঙ্গলে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সিমলাপালের মাচাতোড়া সংলগ্ন সোনাকাঁদি জঙ্গলে প্রথম ‘বাঘের পায়ের ছাপ’ দেখতে পাওয়া যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। যদিও তখন বিষয়টি বন দফতরের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়।

বনশুয়োর বা ওই জাতীয় কোন বন্য পশুর পায়ের ছাপ বলেই মনে করেন তারা। এর এক দু’দিনের মধ্যেই সারেঙ্গার বরাগাড়ি এলাকায় ওই একই রকম পায়ের ছাপের সন্ধান মেলে। সেই সময় এই নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় হলেও বনদফতর বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলে বাঘের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি।

লালগড়ে বনদফতরের গোপন ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়তেই নড়েচড়ে বসে বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগ। বনদফতরের পক্ষ থেকে সিমলাপাল-সারেঙ্গার জঙ্গল মহলে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইক প্রচার শুরু হয়েছে।

এবিষয়ে পিরলগাড়ি রেঞ্জের বিট অফিসার লক্ষ্মীকান্ত চক্রবর্ত্তী বলেন, লালগড়ে বাঘের অস্তিত্ত্ব প্রমাণ পাওয়ার পর বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগের পক্ষ থেকেও জঙ্গল মহলে সাধারণ মানুষকে অবাধে ঘোরা ফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সিমলাপাল-সারেঙ্গা এলাকার মানুষেরও দাবি, লালগড়ের জঙ্গলে বনদফতরের ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘটি ঝাড়খণ্ড থেকে রাণীবাঁধের জঙ্গল হয়ে সিমলাপাল-সারেঙ্গা হয়ে লালগড়ের জঙ্গলে ঢুকেছে। কারণ এই সব কটি বনাঞ্চল ঘন আর লাগোয়া। সারেঙ্গা থেকে লালগড়ের দূরত্বও খুব একটা বেশি নয়।

সারেঙ্গার পিরলগাড়ি মোড় সংলগ্ন বেঞ্জটাবন গ্রামের দেবাশীষ কর ও চঞ্চল পাণ্ডা বলেন, আমাদের ধারণা ঐ বাঘ পিরলগাড়ি রেঞ্জ এলাকা দিয়েই লালগড়ে পৌঁছেছে। কয়েকদিন আগে ঐ বাঘের ছাপ গ্রামের পুকুর পাড়ে দেখা গেছে দাবী করেন। একই দাবি করেন পশ্চিম মেদিনীপুর সীমান্ত লাগোয়া খয়েরগেড়িয়া গ্রামের দেবা মুর্ম্মু, মনোরঞ্জন সরেনরাও। তারা বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে গ্রামের সরষে ক্ষেতের ভিজে মাটিতে বাঘের পায়ের ছাপ আমরা সবাই দেখেছি।

বনদফতরের এই উদ্যোগে খুশি জঙ্গল মহলের মানুষ। তবু বাঘের আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। তাদের ধারণা লালগড়ের জঙ্গল থেকে যদি আবার এই পুরনো পথেই বাঘ ফিরে আসে, তাহলে সমস্যা বাড়বে৷ তাই আতঙ্ক রয়েই গিয়েছে এলাকায়৷