ব্যাংকক: সাপের রক্ত পান করলেন আমেরিকান ও থাইল্যান্ডের নৌসেনারা৷ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে কোবরা গোল্ড ওয়ার গেমস নামক জঙ্গলে বেঁচে থাকার একটি প্রোগ্রাম৷ আর এই প্রোগ্রামের অংশ হিসাবেই এই ভয়ঙ্কর কাজটি করেন সেনারা৷ তবে শুধু সাপের রক্তই নয়, কাঁকড়াবিছেও খান তারা৷

জানা গিয়েছে, এশিয়ার সবথেকে বড় মিলিটারি এক্সারসাইজ হল কোবরা গোল্ড৷ ৩৭তম এই ফিল্ড এক্সারসাইজে অংশগ্রহণ করতে আসে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সেনাবাহিনীরা৷ জানা গিয়েছে, আগামী দশদিন ধরে থাইল্যান্ডের উপকূলে চলবে এই ফিল্ড প্রশিক্ষণ৷

আরও পড়ুন: দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বোনাস দেবে কেন্দ্র

সোমবার থাইল্যান্ডের ছনবুড়ি প্রদেশে অবস্থিত থাই নৌবাহিনী বেসে জঙ্গলে বেঁচে থাকার একটি বার্ষিক ড্রিলে অংশগ্রহণ করে বেশ কয়েক ডজন আমেরিকান ও থাই নৌসেনা৷ সেখানেই একটি কোবরাকে পুড়িয়ে খাওয়ার আগে সেটিকে কেটে তার রক্তপান করে সেনারা৷

থাই সামরিক প্রশিক্ষকরা দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা-সহ ওই দলটিকে জঙ্গলে বেঁচে থাকার জন্য আবশ্যিক কিছু প্রশিক্ষণ দেয়৷ যেমন, কাঁকড়াবিছে ও বিষাক্ত মাকড়সাদের খাওয়ার আগে কী করে তাদের বিষ বের করে নিতে হয়, জঙ্গলের মধ্যে কী করে জল খুঁজতে হয় এবং খাদ্যযোগ্য উদ্ভিদকে কী করে চিনবে প্রভৃতি৷

আরও পড়ুন: দীর্ঘ আয়ু পেতে প্রতিদিন পান করুন ওয়াইন বা বিয়ার

ড্রিলের দায়িত্বে থাকা থাই সার্জেন্ট মেজর চৈওয়াত লাদসিন বলেন, ‘‘বেঁচে থাকার মূল চাবি হল কী খেতে হবে তা জানা৷’’ সাপের রক্তপানের সম্পর্কে আমেরিকান সার্জেন্ট খ্রিস্টোফার ফিফি বলেন, ‘‘এই প্রথম আমি সাপের রক্তপান করেছি৷ এটা এমন কিছু নয় যা আমেরিকাতে হয়৷’’

এই বছরের কোবরা গোল্ড এক্সারসাইজের যুদ্ধ খেলায় ৬ হাজার আটশোর কাছাকাছি আমেরিকান সেনা অংশগ্রহণ করেছেন৷ যা আগের বছরে তুলনায় প্রায় দ্বিগুন৷ এই বিপুল পরিমাণ অংশগ্রহণকারী দুই মিত্র দেশের সম্পর্কে উষ্ণতার দিকেই ইঙ্গিত করছে৷ এবিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের মূখপত্র স্টিফানি কাসটনগুয়ে বলেন, ‘‘অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এই প্রদেশের প্রতি মার্কিন দায়িত্বকেই প্রতিফলিত করে৷’’

আরও পড়ুন: যৌন হেনস্থার অভিযোগে চিকিৎসককে পিটিয়ে আধমরা করল নার্সেরা

তিনি আরও বলেন, ‘‘কমিউনিটি রিলেশনস-এর প্রকল্প ছাড়াও এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য দুর্যোগের সময় ত্রাণ এবং মানবিক সহায়তা প্রদান করা৷’’