ছবি-শশী ঘোষ

সুভীক কুন্ডু, বারাসত: তিনি এলেন, দেখলেন ও জয় করলেন! তবে বল পায়ে দাদা বনাম দিয়েগো ম্যাচে গোল করা হল না মারাদোনার৷ ম্যাচের কিক-অফের পরই মাঠ ছাড়েন ‘হ্যান্ড অফ গড’৷

মঙ্গলবার দিয়েগোকে পাওয়া গেল অবশ্য অন্য এক জাদুকরের বেশে৷ সেই জাদুকর আসবে বলেই উৎসবের আবহ গোটা বারাসতে৷ দিনের শুরু থেকেই চাঁপাডালির মোড় থেকে প্রায় বন্ধ অটো চলাচল৷ অটো চলছে তবে, রিজার্ভ করেই যেতে হবে৷ আধ ঘণ্টা পথের জন্য দিতে হবে তিনশো টাকা৷ তখন সবারই ডেস্টিনেশন যে আদিত্য স্কুলের ক্যাম্পাস৷ বাসেও বাঁদুড় ঝোলা ভিড়৷ পড়ুয়াদের হাত ধরে ‘ফুটবল ঈশ্বর’ দর্শনে নিয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকরা৷
কদম্বগাছির যে জায়গায় দাদা বনাম দিয়েগো ম্যাচের আয়োজন, সেখানেও উপছে পড়া ভিড়৷ ভগবান আসছেন, তাঁকে এক পলক না-দেখলে চলে৷ মারাদোনার চেয়ে বয়সে কুড়ি বছরের বেশী হবে৷ ক্যাম্পাসের ঠিক উল্টো দিকের চায়ের দোকানে ভিড় জমানো এক বৃদ্ধা বললেন, আজ যে আমাদের উৎসবের দিন৷ টিভি-তে অনেক দেখেছি, আজ গাড়ী করে সামনে দিয়ে গেল৷ স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না, কিন্তু দেখলাম আজ আমাদের ভগবানের পা পড়ল এই চত্তরে৷

স্টেডিয়ামেও তখন ছোটদের চিৎকার, অপেক্ষার প্রহর গোনা, কখন দেখা মিলবে ভগবানের, ঘড়ি ধরে মারাদোনা এলেন একটার একটু পড়ে, মুহূর্তেই পাল্টে গেল আবহ, শুরু দিয়েগো… দিয়েগো চিৎকার৷ আবহে বাজছে স্প্যানিশ সংগীত৷ আর সবুজ ঘাসে মারাদোনাকে বরণ করে নিতে হাজির তখন জনা চল্লিশ পড়ুয়া৷ সবার জার্সিতে দিয়েগোর স্পেশাল ১০ নম্বর জার্সি৷ স্টেডিয়ামের বাইরে গাছের ডালে উঠে ভিড় করা কচিকাচাদের মধ্যেই এক খুদে বলে উঠল ওই দেখ মারাদোনা, ধূসর রঙের জামা পড়ে আসছে লোকটা৷

কথা ছিল ম্যাচ খেলার৷ কিন্তু কিক অফ করেই চলে যান৷ পিঠে ব্যথা থাকায় ম্যাচে নামেননি দিয়েগো৷ তাতে কী? তার আগে তো শো জমিয়ে দিয়ছেন ফুটবল ম্যাজিসিয়ন৷ ম্যাচের আগে স্প্যানিশ গানে গলা মিলিয়ে চলল সেলিব্রেশন৷ তারপর ছবি শিকারিদের আবদান মেটালেন৷ সৌরভের হাত ধরে আকাশের দিকে উঁচিয়ে চলল ফোটোসেশন৷ এটা ছিল দ্বিতীয় পর্ব৷

আর আগে এদিন যে মারাদোনাকে পাওয়া গেল অন্য মেজাজে৷ মাঠে প্রবেশ করেইে ভগবানের সেই স্বভাবসিদ্ধ হাত নাড়া, চোখে কালো চমশা, পড়নে ধূসর টি-শার্ট আর বারমুন্ডা৷ এসেই বল পায়ে খেলা দেখাতে শুরু করলেন, বাঁ-পায়ের এক একটা কিকে বল তখন আছড়ে গিয়ে পড়ছে গ্যালারিতে৷ এরপর প্রায় আধ ঘন্টা ধরে পড়ুয়াদের ফুটবল স্কিল সম্পর্কে ওয়ার্কশপ করালেন৷ গোল করালেন খুদেদের দিয়ে সঙ্গে গোল করলেন নিজেও৷ গোল না-পেলে মুখ কাচুমাচু করে হতাশা প্রকাশ করলেন আবার কখনও গোল করে হাসি মুখে মাঠ ছাড়লেন৷ মাঠে বল পায়ে দাপিয়ে বেড়ানোর পর গ্যালারিতে গিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আর্শীবাদ কুড়োলেন৷

ছবি-শশী ঘোষ

ম্যাচে দিয়েগো জাদু দেখা না-গেলেও দাদা ম্যাজিক মিলল৷ জিন্সের সঙ্গে স্নিকারের পড়ে বল পায়ে মাঠ মাতালেন মহারাজ৷ একটি গোল করালেনও তিনি৷ দিয়েগো না-খেলায় এদিন দ্বিতীয়ার্ধে আবার দল পাল্টে দিয়েগোর দলেও খেললেন সৌরভ৷ মারাদোনার বদলি হিসবে এদিন খেললেন সুজিত বসু৷ এদিন দুটি গোল করেন সৌরভের দলে ছিলেন মনোজ তিওয়ারি৷ এছাড়াও মারাদোনার দলে ছিল হেমন্ত ডেরা, শিশির ঘোষ, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, দীপেন্দু বিশ্বাসরা৷ অন্যদিকে সৌরভের দলে ছিলেন শ্যাম থাপা,অ্যালভিটো, শিবশংকর পাল, অভিজিৎ মন্ডল৷ সবাই এদিন খেলেন দশ নম্বর জার্সি পড়ে৷