রায়পুর: সঙ্গে ৫দিনের সন্তান৷ এই অবস্থায় ছত্তিশগড় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করল এক মহিলা মাওবাদী৷ জেরায় সে জানায়, গর্ভবতী থাকাকালীন প্রসবের কয়েক ঘন্টা আগে তাকে ফেলে রেখে চলে যায় তার ইউনিট৷ বাধ্য হয়েই কোনও রকমে হাসপাতালে এসে ভরতি হয় ওই মাওবাদী সদস্য, সুনিতা৷

জন্ম দেয় সন্তানের৷ কিন্তু তারপরেও তার দলের সদস্যরা কোনও রকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি৷ বাধ্য হয়েই পাঁচদিনের সন্তানকে নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় এই মাওবাদী৷ পুলিশ সূত্রে খবর বস্তার ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল সুনিতা৷ কাংকের জেলার গভীর জঙ্গলে প্রসবের জন্য তাকে ফেলে চলে যায় ইউনিট৷ আর ফিরে আসেনি তারা৷

জেরায় সে পুলিশকে জানিয়েছে ২০১৪ সাল থেকে একাধিক মাওবাদী কার্যকলাপ ও নাশকতার কাজে যুক্ত ছিল সে৷ তার মাথার দাম ধার্য করা ছিল ৫ লক্ষ টাকা৷ তবে নিজে থেকে সে এসে আত্মসমর্পণ করায় পুলিশের তদন্তে সাহায্য হবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন : ভারতীয় বিমানের জন্য বন্ধই থাকবে পাকিস্তানের আকাশপথ

উল্লেখ্য, পঞ্চম দফার ভোটের আগে তিন মাওবাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ তাদের মধ্যে একজন আত্মসমর্পণ করে৷ ছত্তিশগড়ের মাওবাদীদের গড় বলে পরিচিত দান্তেওয়াড়ার ঘটনা৷ দান্তেওয়াড়া পুলিশ সুপার অভিষেক পল্লভা জানান, বররেভাসা গ্রাম থেকে হাদমা মাদকাম (২২) ও দেবা বারসে (২১) নামে দুই মাওবাদীকে ধরা হয়৷ এছাড়া কিরানদুল পুলিশ থানা এলাকা থেকে হিদমা কাওয়াসি (২৫) নামে আরও এক মাওবাদী পুলিশের জালে ধরা পড়ে৷

গত ২ মে পেরপা এবং মাদকামিরাস গ্রামের মাঝামাঝি জঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে মাওবাদীদের গুলি যুদ্ধ বাধে৷ সেই সময় সেখানে ছিল হিদমা কাওয়াসি৷ এনকাউন্টার চলাকালীন তার বা পায়ে গুলি লাগে৷ মাদবী মুইয়া নামে এক মাওবাদী কমান্ডার গুলিতে নিহত হয়৷

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লোভ নেই কংগ্রেসের : গুলাম নবি আজাদ

মাওবাদীদের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাকে বড় সাফল্য হিসাবে দেখছে পুলিশ৷ বিশেষ করে হিদমা কাওয়াসিকে বাগে আনতে পেরে স্বস্তিতে পুলিশ৷ মালাংগীর এরিয়া কমিটির অ্যাকশন টিমের কমান্ডার ছিল কাওয়াসি৷ বোমা তৈরি ও বিস্ফোরণ ঘটাতে দক্ষ ওই মাওবাদী কমান্ডার৷ অনেক বিস্ফোরণের সঙ্গেও যুক্ত ছিল সে৷ তার মাথার দাম ধার্য ছিল ৮ লক্ষ টাকা৷

অপরদিকে হাদমা মাদকাম ও দেবা বারসে দুইজনেই সক্রিয় মাওবাদী সদস্য৷ বররেভাসা গ্রামে মাওবাদীদের সমর্থনে পোস্টার লাগানোর সময় ধরা পড়ে যায়৷ অপরদিকে এদিন আরও একটি ঘটনা ঘটে৷ নীলু ভাস্কর নামে এক মাওবাদী থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে৷ গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত৷ তবে সে মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত৷ তার কাজ ছিল মাওবাদীদের বিস্ফোরক, ওষুধ, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, পোশাক, নিত্যনৈমিত্তিক পণ্য ও দ্রব্যাদি সরবরাহ করা৷