স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান (পূর্ব বর্ধমান) : বৃহস্পতিবারই ঘোষণা করেছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যে কোনও বিজয় মিছিল করতে পারবে না বিজেপি৷ রাজ্য প্রশাসন কোনও বিজয় মিছিলের দায়িত্ব নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল৷ তারপরেই বর্ধমান জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷ বর্ধমান শহরের বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মাওবাদী কায়দায় পড়ল পোস্টার৷

বর্ধমান শহরের রথতলা, পদ্মপুকুর এলাকায় ‘মাওবাদী কায়দায়’ রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি পোষ্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়৷ উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলেই শহরের ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডে বিজেপির বিজয় মিছিল করার কর্মসূচি ছিল। বিজেপির দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছিল এদিনের এই মিছিলের বৈধ অনুমতিও দিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে কোথাও আর কোনো বিজয় মিছিল হবে না বলে ঘোষণা করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ১০ দিনের বেশি কেটে গিয়েছে। তাই রাজ্য জুড়ে কোথাও আর বিজয় মিছিলের প্রয়োজন নেই৷ এই ধরণের মিছিল রাজ্যে অশান্তি তৈরি করে৷ যা প্রশাসন কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না৷

উল্লেখ্য এই ঘোষণার পরেই বর্ধমান থানার পুলিশ এদিনের নির্ধারিত মিছিলের অনুমতি পত্র প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানিয়েছে বিজেপির জেলা যুব মোর্চার সভাপতি শ্যামল রায়। পাশাপাশি শ্যামল বাবু অভিযোগ করেছেন, বিজেপির কর্মী সমর্থকদের ভীত সন্ত্রস্ত করতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রথতলা নতুন কলোনি, পুরাতন কলোনি, পদ্মপুকুর প্রভৃতি জায়গায় বেছে বেছে তাদের নেতা,কর্মীদের বাড়িতে মাওবাদী কায়দায় পোষ্টার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

তার অভিযোগ, সেই সব পোস্টারে লেখা হয়েছে বিজেপি করলে খুন করে লাশ গায়েব করে দেওয়া হবে। শ্যামল রায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। আমরা রাজনৈতিক ভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাবো।

তিনি আরো বলেন, পুলিশকে আজ দলদাসে পরিণত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার খোকন দাসের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এই ধরণের কার্যকলাপের সংগে তৃণমূল জড়িত নয়।