রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার ‘কিডনি কাটা গ্রাম’ বলে পরিচিত রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিপাড়া, বাজেবিন্দোল গ্রাম, বা জালি পাড়া। টানা লকডাউনের জেরে ঘোর বিপাকে পড়েছেন এই গ্রামগুলির বহু মানুষ। রুজি-রুটির সংস্থান না হওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রামের বেশ কিছু মানুষের একটি কিডনি নেই। কেউ বা প্রতারকের পাল্লায় পড়ে ভিনরাজ্যে চাকরি পাওয়ার লোভে, কেউবা নিতান্তই টাকার লোভে নিজেদের শরীরের একটি কিডনি অন্য কাউকে বিক্রি করেছেন।

তারপর থেকেই তাঁদের শরীর বেশি পরিশ্রম সহ্য করতে পারে না। লকডাউনের আগে কোনওমতে দিনমজুরি করে রোজগার করলেও, টানা দু’মাসের বেশি সময় কাজ না থাকায় তাঁরা প্রায় না খেয়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জালিপাড়ার মধু জালি। মধু পাশের গ্রামের এক আড়কাঠির পাল্লায় পড়ে মুম্বই গিয়ে নিজের অজান্তে শরীরের একটি কিডনি ‘খুইয়ে’ গ্রামে ফিরে এসেছেন। আবার বাজেবিন্দোল গ্রামের মহম্মদ এহশান আলি। টাকার লোভে পড়ে কিডনি মাফিয়েদের খপ্পরে পরে নিজের কিডনি বিক্রি করেছেন। সব ক্ষেত্রেই প্রতারকরা নিজেদের সমস্ত প্রয়োজনীয় ‘নথি’ তৈরি করে নিয়েছিলেন এঁদের দিয়ে।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় লকডাউনের জেরে রায়গঞ্জের এই গ্রাম গুলির বহু মানুষ কাজ খুইয়ে বিপাকে পড়েছেন। প্রয়োজন মতো ত্রাণসামগ্রী তাঁরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী গ্রামেরই একাংশের মানুষ তাঁদের টিপ্পনি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ।

নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা স্থানীয় পঞ্চায়েতে জানিয়েও সুরাহা মেলেনি বলে দাবি তাঁদের। খাবারের আশায় জলাশয় থেকে গেঁড়ি-গুগলি, ঝিনুক তুলে পেট ভরাচ্ছেন তাঁরা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব