আইজল : পুনর্বাসন চুক্তির আগে এক ভিন্ন খবর উঠে আসছে মিজোরাম থেকে। এক নির্বাচন অফিসারের দাবী, পুনর্বাসন অনেক দূরের গল্প, সেখানকার ১১ হাজার রিয়াং উপজাতির নাম বাদ যেতে চলেছে নয়া ভোটার তালিকা থেকে। এই উপজাতি মূলত এখন উত্তর ত্রিপুরার বাসিন্দা কিন্তু তারা বছর তেইশ আগে মিজোরাম থেকে চলে এসেছিল ত্রিপুরায়। এখানে প্রশ্নও উঠছে। এত বছর আগে চলে আসা মানুষের ভোটার তালিকায় কেন সংশোধন করা হয়নি?

মিজোরাম নির্বাচনী অফিসারের দাবি , জানুয়ারির ১৬ তারিখের মধ্যে ৩৪ হাজার উপজাতিকে পুনর্বাসন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিল্লি থেকে এখনও এ নিয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। সেই নির্দেশিকা এলে ওই তালিকা থেকে ১১ হাজার রিয়াং উপজাতির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। ওই অফিসারের দাবী ‘পিপলস অ্যাক্ট ১৯৫১’ অনুযায়ী এই কাজ করা হবে। রাজ্য সরকার সবুজ সংকেত দিলে তবেই এই নাম বাতিলের আকজ শুরু হবে। এদিকে ২০২০-র পয়লা জানুয়ারি থেকেই দেশের বেশীরভাগ রাজ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধনের আকজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় মিজোরামও রয়েছে। মিজোরাম নির্বাচন অফিস

সূত্রের খবর , আপাতত খাতায় কলমে রিয়াং উপজাতির সংখ্যা ১২,০৮১ জন। গত বছরে ১,১০০ জন্য মিজোরামের গ্রামে ফিরে এসেছেন নতুন করে। কিন্তু তারা জানতে পেরেছেন ত্রিপুরার রিলিফ ক্যাম্পে এমন আরও ১১হাজার জন এমন গৃহহীন রিয়াং উপজাতির মানুষ বসবাস করছেন। এদের ভোটার কার্ডের সমস্ত তথ্য মিজোরামের কিন্তু তারা থাকছেন ত্রিপুরায়। এরা যেহেতু পয়লা জানুয়ারির আগে মিজোরামে ফিরে যাননি তাই তাদের নাম সেখানকার ভোটার তালিকা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বাদ যাবে।

এদিকে জানুয়ারির ১৬-র পুনর্বাসন চুক্তি অনুযায়ী মিজোরাম থেকে ত্রিপুরায় চলে আসা রিয়াংরা সরকারের থেকে ৪০/৩০ ফুটের জমি পাবেন ত্রিপুরায়। পাশাপাশি ২ বছরের জন্য ৪ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট এবং ৫হাজার টাকা করে প্রত্যেক মাসে পাবার কথা রয়েছে। এসবের মাঝেই এই নতুন তথ্য উঠে আসছে।
শঙ্কার কারণ হল অন্য জায়গায় ইলেকশন কমিশন যদি ত্রিপুরায় থাকা এই রিয়াংদের সবাইকে খুঁজে না বার করতে পারে তাহলে যারা ‘নিখোঁজ’ ভোটের অধিকার হারাবেন। অন্যদিক দিয়ে দেখলে তারা নাগরিকত্বের প্রথমেই বড় ধাক্কা খাবেন, কারণ কাগজ নেই। যদিও এই সমস্ত তথ্যই সাধারণত ইলেকশন কমিশনের কাছে থাকেই সেই অনুযায়ী ওই ১১হাজার জনের তথ্য দিয়েছিলেন।