স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এ যেন শাঁখের করাত অবস্থা৷ এগোলেও বিপদ, পিছোলেও৷ দলের বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে আজ বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী৷ যেসব জেলায় ফল খারাপ সেখানকার দলীয় নেতৃত্বকে নেত্রীর ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হতে পারে৷ কিন্তু তা চরমে গেলেই বিপদ৷ জোড়াফুল ছেড়ে তাদের আস্তানা হবে পদ্মফুলে৷

৪২-এ ৪২ এর ডাক দিয়েছিলেন নেত্রী৷ কিন্তু তার কাছে পিঠেও পৌঁছতে পারেনি দল৷ উত্তরবঙ্গে ভাঁড়ার শূন্য৷ দক্ষিণবঙ্গেও আসন পেলেও রয়েছে অশনিসংকেত৷ এই অবস্থায় লোকসভায় দলের হারের ময়না তদন্তে এদিন বিকেলেই পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন নেত্রী৷ রিপোর্ট তলব করবেন জেলা সভাপতি ও পর্যবেক্ষকদের থেকে৷

আরও পড়ুন: ইস্তফা দিতে চাননি রাহুল, দাবি উড়িয়ে সাফ জানাল কংগ্রেস

সেই রিপোর্টে কী থাকবে ব্রহ্মাস্ত্র? জল্পনা তৃণমূলের অন্দরে৷ দলের অনেকেই মনে করছেন প্রার্থী নিয়ে বেশ কয়েজন জেলা সভাপতির ক্ষোভ ছিল৷ জানানো হয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমোকে৷ কিন্তু সেখানে বদলের কোনও উচ্চবাচ্য করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ উলটে নির্দেশ দেওয়া হয় প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ থাকলে সে দল ছাড়তে পারেন৷

সেই সময় অনেকেই মুখ বুজে ছিলেন৷ কিন্তু গেরুয়া ঝড় উঠতেই তা প্রকাশ্যে আশার প্রবল সম্ভাবনা৷ বালুরঘাটে বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা ঘোষকেই ফের প্রার্থী করে তৃণমূল৷ যা নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন উত্তরদিনাজপুর জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র নিজেই৷ অর্পিতার প্রচারও শুরু হয় দেরিতে৷ রব উঠেছিল প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় বিপ্লববাবু জোড়াফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখানো কেবল সময়ের অপেক্ষা৷ কিন্তু সে যাত্রায় জল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি৷

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত সংখ্যালঘু তোষণেই হার হয়েছে মমতার : তসলিমা

ভোটের ফল বের হতেই অবশ্য বিপ্লব মিত্রের আশঙ্কাই মিলে যায়৷ হেরে যান নাটকের শহর বালুরঘাটের নাট্যকর্মী প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা৷ প্রকাশে না বললেও তাঁর নিশানায় দলের জেলা সভাপতি৷ সূত্রের খবর, বিপ্লব মিত্রের কারসাজী ফাঁস করতে গত দুদিন ধরে রিপোর্ট তৈরি করছেন তৃণমূলের পরাজিত এই প্রার্থী৷ যা আজ জমা দেবেন নেত্রীর কাছে৷ পালটা বিপ্লব মিত্রও অনড় ভোটের আগে প্রার্থী নিয়ে তাঁর অসন্তোষের কথা স্মরণ করাতে৷

এতো গেল একটি উদাহরণ মাত্র৷ তালিকায় রয়েছে আরও বেশ কয়েকজনের নাম৷ কারা তারা? শাসক দলের নানা মহলেই উঠে আসছে বেশ কয়েকটি নাম৷

আরও পড়ুন: ভারতের সৌভাগ্য, সে মোদীর মতো এক নেতাকে পেয়েছে: ট্রাম্প

গতকালই দল বিরোধী মন্তব্যের জন্য বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়কে বহিষ্কার করে দল৷ তৃণমূল মহাসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন দলে থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীকে বরদাস্ত করা হবে না৷ মুকুল পুত্র পালটা বলেন ‘মুক্ত বাতাসে’ এবার নিশ্বাস নিতে পারব৷ মুকুল রায়ও ইতিমধ্যেই দল ছাড়ার জন্য তৃণমূল বিধায়কদের আহ্ববান জানিয়েছেন৷

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল এখন আর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ট দল নয়৷ অন্যদিকে, প্রতিবাদ করে দল থেকে বাদ পড়লে বিজেপির দরজা খোলা রয়েছে৷ সেখানে গিয়ে আশ্রয় পাওয়াই নয়, মিলতে পারে আগামী বিধানসভা ভোটের টিকিটও৷ ফলে মমতার যেন শতেক জ্বালা৷ হাজির ‘পদ্ম কাঁটা’র লাল সতর্কতা৷ এই ফলের পর ভর্ৎসানাও করতে হবে, আবার মাপতে হবে ভর্ৎসনার মিটারও৷