তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির উত্থান হলেও সময়ের সঙ্গে ধাক্কাও আসছে তৃণমূলের তরফের। সেই ধারা বজায় রেখে ফের পদ্ম-শিবিরে ভাঙন ধরালো বাঁকুড়া জেলা ঘাস ফুল শিবির। রবিবার ওন্দা, রতনপুর ও তালডাংরার সাতমৌলি অঞ্চলের বেশ কিছু বিজেপি নেতা-কর্মী তৃণমূলে যোগ দিলেন।

জেলায় বিজেপির বিপুল সাফল্যের পর বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকার বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত শাসকদলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় ভারতীয় জনতা পার্টি। একের পর এক তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে বাঁকুড়া জেলাকে সাংগঠনিকভাবে দু’ভাগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

বিধায়ক অরুপ খাঁকে বাঁকুড়া জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে বাঁকুড়ায় শুভাশীষ বটব্যাল ও বিষ্ণুপুরে মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে ঐ দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পরেই সাফল্য মিলতে শুরু করে। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতা কর্মীরা ফের পুরোনো দলে ফিরতে শুরু করেন। এমনকি দীর্ঘদিন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ও পদাধিকারীরাও তৃণমূলে নাম লেখাতে শুরু করেছেন।

জেলা তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, এদিন বিজেপি বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ সভাপতি পিনাকী দাসের নেতৃত্বে রতনপুর এলাকার ১১ জন ও ওন্দায় বিশ্বজিৎ মাহাতো সহ আরো ৮ জন বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

বাঁকুড়ায় তাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের প্রাক্তন বাঁকুড়া জেলা সভাপতি, বিধায়ক অরুপ খাঁ। অন্যদিকে তালডাংরার সাতমৌলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি নেতা ও দলের অন্যতম জেলা সম্প্রসারক তোতন লায়েকের নেতৃত্বে সুকুমার লায়েক জেলা তৃণমূল নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর হাত ধরে তাদের দলে যোগ দেন।

তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপি বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সহ সভাপতি পিনাকী দাস মুকুল রায়ের নাম না করে বলেন, ‘দল পরিবর্তনের নায়ক ইতিমধ্যে হেট্রিক করে বিজেপিতে এসে এখন বলেন তিনি পাপের প্রায়শ্চিত্য করছেন’। কিন্তু আমি কোন পাপ করিনি, কিন্তু লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দিন থেকে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। রতনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি দখল নিয়ে মোরাম থেকে আমবাগানের টাকা ঐ দলের নেতারা ‘চুরি’ করতে শুরু করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এই ঘটনায় তিনি যথেষ্ট বীতশ্রদ্ধ দাবী করে বলেন, রাজ্যের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট ভালো কাজ করছে। বিজেপির আইটি সেল শুধু মিথ্যাচার করে বেড়ায় দাবী করে যুব সম্প্রদায়কে অন্তত ৭ দিন মোবাইল বন্ধ রেখে এলাকায় ঘুরে ঘুরে উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ চলছে তা দেখার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী সদ্য প্রাক্তন এই বিজেপি নেতা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অরুপ খাঁ এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে ওন্দা বিধানসভা তৃণমূলের দখলেই রাখবেন বলে দাবী করেন।

ওন্দা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক অরুপ খাঁ রতনপুরের পিনাকী দাস সহ ১১ জন ও ওন্দায় বিশ্বজিৎ মাহাতো সহ ৯ জন শীর্ষ স্থানীয় বিজেপি নেতা তাদের দলে যোগ দিয়েছেন দাবী করেন। একই সঙ্গে এরা সকলেই দলনত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের সাথে কাজ করার জন্য এসেছেন বলে তিনি জানান।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ