কলকাতা২৪x৭: মাসদু’য়েক আগে প্রতিষ্ঠা দিবসে জাঁকজমক করে পালিত হয়েছিল ক্লাবের শতবর্ষ। দিনকয়েক বাদে শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ইস্টবেঙ্গল দিবসের অনুষ্ঠানে সুদূর ইরান থেকে উড়ে এসেছিলেন ক্লাবের ‘অল টাইম গ্রেট’ বাদশা মজিদ বাসকর। কিন্তু বৃহস্পতিবার শতবর্ষে এক অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী রইলেন ইস্টবেঙ্গল সভ্য-সমর্থকেরা। হয়তো সাত গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রত্যাশা করাটা বাড়াবাড়ি ছিল, কিন্তু ওয়াকওভার না দিয়ে কাস্টমসের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে দল নামিয়ে আরেকটু পেশাদারি মনোভাবের পরিচয় দিতে পারতেন না ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ইনভেস্টর গ্রুপ কিংবা কর্তারা?

নাকি শতবর্ষে এমনটাই সমর্থকদের প্রত্যাশিত ছিল প্রিয় ক্লাবের থেকে? পরিবর্তিত পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল থাক শেষ ম্যাচে মাঠে নামা উচিৎ ছিল দলের, একসুরে জানালেন প্রাক্তনরা। কারও মতে হার-জিতের পরোয়া না করে শেষ ম্যাচে অন্তত দ্বিতীয় সারির দল নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ ছিল ক্লাবের। ক্লাবের শতবর্ষে কেউ আবার এমন ঘটনাকে ‘নিন্দনীয়’ আখ্যা দিতেও দ্বিধা করলেন না।

ক্লাবের প্রাক্তনী তথা সাদার্ন সমিতি কোচ মেহতাব হোসেন ঘটনা প্রসঙ্গে ২০০৮ কলকাতা লিগের স্মৃতিতে ডুব দিলেন। জানালেন রাইডারের কোচিংয়ে সেবার শেষ ম্যাচের আগে দলের অর্ধেকেরও বেশি ফুটবলার চোটগ্রস্থ ছিলেন। ক্লাব-কর্তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছুটা জেদ করেই শক্তিশালী চিরাগের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন ফুটবলাররা। ম্যাচটা ড্র করেছিল ইস্টবেঙ্গল। তাই মেহতাবের কথায় ফলাফল যাইহোক ক্লাবের সম্মানের কথা ভেবে মাঠে নামা উচিৎ ছিল ইস্টবেঙ্গলের। পাশাপাশি ৬১ বছর বাদে তিনপ্রধানের বাইরে গিয়ে খেতাব জেতায় পিয়ারলেসকে অভিনন্দন জানান তিনি। ১৩ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা লাইবেরিয়ান ক্রোমার প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ মেহতাব।

প্রাক্তন ফুটবলার ও জাতীয় লিগ জয়ী কোচ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের সাফ কথা, ‘ইস্টবেঙ্গলের খেলা উচিৎ ছিল। ওয়াকওভার দেওয়াটা ঠিক হয়নি। ক্লাবের সভ্য-সমর্থকদের কাছে বার্তাটা খুব একটা ভালো গেল না।’ খেতাব জয়ের জন্য পিয়ারলেসকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতেও তাদের এই পারফর্ম্যান্স বজায় রাখার আবেদন জানান তিনি।

শতবর্ষে লিগের শেষ ম্যাচে দল না নামানোর ঘটনাকে ‘খুবই খারাপ’ এবং বাংলা ফুটবলের জন্য এই ঘটনাকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দেন ক্লাবের আরেক প্রাক্তন ফুটবলার কৃষ্ণেন্দু রায়। তাঁর কথায়, ক্লাবের জার্সির প্রতি যে আবেগ সেটা ঘরের ছেলে ছাড়া অন্য ছেলে দিয়ে আনা সম্ভব নয়। এটা তারই ফল। একইসঙ্গে ইনভেস্টর এনে কোটি-কোটি টাকা খরচ করে দল বানানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে কৃষ্ণেন্দুর কথায় এই ইস্টবেঙ্গলকে আমরা চিনতে অভ্যস্ত নই। পাশাপাশি পিয়ারলেসের খেতাব জয়ে ‘একনায়কতন্ত্রের অবসান’ হল বলে মনে করেন তিনি। কৃষ্ণেন্দুর কথায়, এবার পিয়ারলেসকে দেখে বাকি দলগুলোও ভালো দল গড়ে জয়ের জন্য ঝাঁপাবে।

ক্লাবের আরেক প্রাক্তনী প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, কীসের ভিত্তিতে ইস্টবেঙ্গল ওয়াকওভার দিল সেটা ক্লাবের অফিসিয়ালরা জানেন। কিন্তু লিগের অন্তিম পর্যায়ে যখন ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে অন্য একটি দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া, এমতাবস্থায় ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচটা খেলা উচিৎ ছিল বলেই মত তাঁর। একইসঙ্গে ইস্টার্ন রেলের পর ৬১ বছর বাদে ছোট দল হিসেবে পিয়ারলেসের খেতাব জয় বাংলা ফুটবলকে নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করেন প্রশান্ত। পাশাপাশি সবসময় দেশের সেরা লিগে খেলতে চেয়ে আবেদন করা কলকাতার দুই প্রধানের এমন ফলাফলে কিছুটা শঙ্কিতও বটে তিনপ্রধানের প্রাক্তন অধিনায়ক।