কল্যাণী: ১৫৬ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেছিলেন প্রথমদিন। আর দ্বিতীয়দিন কল্যানীর বাইশ গজে অপরাজিত শতরানকে কেরিয়ারের প্রথম ত্রিশতরানে কনভার্ট করলেন বাংলার প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি। মূলত ব্যাটিং পিচের প্রত্যাশাতেই ইডেনের বদলে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচ কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে খেলতে চেয়েছিল বাংলা দল। আর সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করলেন মনোজ তিওয়ারি। আর মনোজের ব্যাটে ভর করেই হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে রানের পাহাড়ে বাংলা।

প্রাক্তন অধিনায়কের ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে ভর করে ৭ উইকেটে ৬৩৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে বাংলা। ৩০৩ রানে অপরাজিত থাকেন মনোজ। দেবাং গান্ধীর পর বাংলার দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ত্রিশতরান হাঁকালেন তিনি। হায়দরাবাদ বোলারদের বিরুদ্ধে কল্যাণীতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মনোজ। প্রথমদিন শতরান পূর্ণ করেই মনোজ বুঝে গিয়েছিলেন পিচে কোনও জুজু নেই। ধৈর্য্য রেখে ক্রিজে আঁকড়ে থাকলেই বড় রান নিশ্চিত। সেইমতো দ্বিতীয়দিন বড় রানের লক্ষ্যেই শুরু করেন তিনি।

দ্বিতীয়দিনের শুরুতে শ্রেয়ান চক্রবর্তীর উইকেট হারাতে হয় বাংলাকে। কিন্তু সপ্তম উইকেটে শাহবাজ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে ১০৮ রান যোগ করেন মনোজ। একইসঙ্গে পেরিয়ে যান দ্বিশতরানের গন্ডি। এরপর ৪৯ রানে শাহবাজ আউট হলে মনোজ জুটি বাঁধেন অর্ণব নন্দীর সঙ্গে। অষ্টম উইকেটে তাঁদের ১৫৮ রানের অবিভক্ত পার্টনারশিপ বাংলাকে পৌঁছে দেয় রানের পাহাড়ে। অর্ণবকে সঙ্গে নিয়েই কেরিয়ারের পেওথম ত্রিশতরানে পৌঁছে যান মনোজ। ৪১৪ বলে প্রাক্তন অধিনায়কের অনবদ্য ৩০৩ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৩০টি চার ও ৫টি ছয়ে।

মনোজ ছাড়া আর কোনও ব্যাটসম্যান তিন অঙ্কের রানে না পৌঁছলেও ৯৫ রান আসে শ্রীবৎস’র ব্যাট থেকে। ৫৯ ও ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন যথাক্রমে অনুষ্টুপ মজুমদার ও অর্ণব নন্দী। ব্যাটসম্যানদের পর বল হাতে দায়িত্ব এবার বোলারদের। এই ম্যাচে পুরো পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা জোরালো হবে বাংলার। ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগ টেবিলে ১০ নম্বরে তাঁরা।