অভিষেক কোলে: তাঁকে নিয়ে বাংলা ক্রিকেটের অন্দরমহলে ক্ষোভ বাড়ছে দিনে দিনে। অসন্তুষ্ট সিএবির তরফে তাঁকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। দলের মধ্যে বিভাজন রুখতে অরুণ লালকে মাথার উপরে বসিয়ে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে বাংলার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। রঞ্জির প্রথম দু’ম্যাচে নেতৃত্ব ধরে রাখলেও মনোজ তিওয়ারির উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। ব্যাট হাতে সাময়িকভাবে সেই চাপটাকে দূরে ছুঁড়ে ফেললেন তিওয়ারি। ইডেনে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে অনবদ্য শতরান করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় সমালচনার জবাব দিলেন বাংলা অধিনায়ক।

আরও পড়ুন- কেরিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত বাংলার হয়েই ক্রিকেট খেলতে চান শামি

এমনটা নয় যে রানের মধ্যে ছিলেন না মনোজ। বিজয় হাজারে ট্রফিতে থেকে শুরু করে দেওধর ঘুরে চলতি রঞ্জি ট্রফি পর্যন্ত শেষ দশটি ম্যাচে পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করেছেন একটি ম্যাচে। হিমাচলের বিরুদ্ধে রঞ্জির প্রথম ম্যাচেও ৫৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছিলেন বাংলা দলনায়ক। তবে তিন অঙ্কে পৌঁছনো কোনও ভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না তাঁর।

অবশেষে ইডেনে শাপমুক্তি। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে বড় রানের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও কৌশিক ঘোষ দলকে শক্ত ভিতে বসিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ভিতে রানের ইমারত গড়েন তিওয়ারি।

প্রথম দিনের শেষে ৭০ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন মনোজ। তার পর থেকে খেলতে নেমে দ্বিতীয় দিনের সকালেই হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৯১ বলে ৫০ রান করা তিওয়ারি লাঞ্চের কিছুক্ষণ পরেই ব্যক্তিগত শতরানের গণ্ডি টপকে যান। ১৬৬ বলে ১০১ রান করার পথে মনোজ ১২টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন। প্রথম শ্রেনির কেরিয়ারে তাঁর এটি ২৫ তম শতরান।

আরও পড়ুন- কোহলিকে টিপস, অস্ট্রেলিয়া সফরে এই দুজনকে ওপেনিংয়ে চান সেহওয়াগ

যদিও সেঞ্চুরি করার পর দায়িত্ব কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলেননি বাংলা অধিনায়ক। দিনের দ্বিতীয় সেশনের জলপানের বিরতিতে তিনি অপরাজিত ১৯৫ বলে ১১৫ রান করে। বাংলা প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৯৪ রানে ব্যাট করছে।