চেন্নাই: ইচ্ছে করলেই জুলাইয়ের শেষ অবধি থাকতে পারতেন আইসিসি-র চেয়ারম্যান পদে। চলতি মাসের শেষে আইসিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিত্বও করতে পারতেন। কিন্তু তা না-করে মেয়াদ শেষ হতেই আইসিসি’র চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন শশাঙ্ক মনোহর৷ কিন্তু প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট এন শ্রীনিবাসনের মতে, সৌরভ ও গ্রেভসের জন্য পালিয়ে গিয়েছেন তিনি৷

বুধবারই আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মনোহর৷ তারপরেই মনোহরের দিকে তোপ দাগলেন প্রাক্তন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট৷ শুধু তাই নয়, শ্রীনির মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের ক্ষতি করে বিশ্বের কাছে বিসিসিআইয়ের প্রাসঙ্গিকতা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন মনোহর৷

টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রীনি জানিয়েছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডে নতুন প্রজন্মের কোনও নেতা উঠে এলেই মনোহর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। কারণ ও ভালোভাবেই জানত ওর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত নয়।’

দু’টি জমানায় মোট চার বছরের মেয়াদ শেষ করে বুধবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন মনোহর। আইসিসি’র তরফে দায়িত্ব থেকে শশাঙ্ক মনোহরের অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে নয়া চেয়ারপার্সন হিসেবে কেউ নির্বাচিত না হওয়া অবধি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব সামলাবেন ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা।

খোয়াজা জানিয়েছেন, ‘ক্রিকেটের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে আইসিসি বোর্ডের প্রত্যেকে শশাঙ্ক মনোহরকে তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। তিনি ক্রিকেটের জন্য যা করেছেন তাঁর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং একইসঙ্গে ঋণী। যে অবস্থায় আইসিসি’র দায়িত্ব নিয়েছিলেন তার চেয়ে অনেক ভালো জায়গায় আইসিসি’কে ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি।’

আইসিসি-র প্ৰথম স্বাধীন চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মনোহর। টানা দু’টি টার্মে ক্ষমতায় ছিলেন। তবে নিজের বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিলই ভারতীয় এই ক্রিকেট প্রশাসকের কাছে। কারণ আইসিসির রুল বুক বলছে, স্বাধীন চেয়ারম্যানর হিসেবে সর্বাধিক তিনটি টার্ম পদে থাকতে পারেন। শ্রীনির দাবি, বিসিসিআই-এর প্রশাসক হিসেবে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও জয় শাহ আসায় এক প্রকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হলেন মনোহর।

ভারতীয় ক্রিকেট এক সময় যাঁর অঙুলি হিলনে চলত সেই শ্রীনিবাসন জানান, ‘মনোহর ভারতীয় ক্রিকেটের এতটাই ক্ষতি করেছে যে, ওর প্রস্থানে দেশের ক্রিকেটমহল খুশিই হবে। ভারতীয় ক্রিকেটের অর্থনীতিতেই আঘাত হেনেছে। মনোহর পুরোপুরি ভারত-বিদ্বেষী। বিশ্বক্রিকেটে ভারতের প্রাসঙ্গিকতা অনেক কমিয়ে দিয়েছে।’

মনোহরের ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা-গলাতে পারেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস অথবা বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ তবে এই দু’জন নির্বাচনে লড়বেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি সৌরভের আইসিসি চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি অনেকটাই রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাতেও। সৌরভের ‘কুলিং অফ পিরিয়ডে’র বিষয়টি যাতে মকুফ করা যায় যে বিষয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে অন্তর্বর্তী আবেদন করেছে বিসিসিআই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ