ফাইল ছবি

ক্যানসারে সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রবিবার সন্ধ্যায় মারা যান গোয়ার রূপকার মনোহর পারিক্কর৷ তিনি দেশের ১৮ তম মুখ্যমন্ত্রী যিনি পদে থাকাকালীন প্রয়াত হন৷ পারিক্করের প্রয়াণ সেই ১৭ মুখ্যমন্ত্রীর স্মৃতি ফিরিয়ে আনল৷ জেনে নেওয়া যাক তাদের কথা৷

গোপীনাথ বরদলই: অসমের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলুই৷ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্দার বল্লবভাই প্যাটেলের সঙ্গে কাজ করেছেন৷ ১৯৫০ সালে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মারা যান তিনি৷

রবিশঙ্কর শুক্লা: স্বাধীনতা সংগ্রামী রবিশঙ্কর মহিলাদের ক্ষমতায়নের বিশ্বাসী ছিলেন৷ পণপ্রথা, অশিক্ষার ঘোরতর বিরোধী রবিশঙ্কর মধ্যপ্রদেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন৷ ১৯৫৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের দু’মাস বাদে মারা যান৷

শ্রীকৃষ্ণ সিং: বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিং৷ বিহার কেশরী বলে পরিচিত শ্রীকৃষ্ণ ১৯৬১ সালে মারা যান৷

বিধানচন্দ্র রায়: স্বাধীনতা সংগ্রামী, স্বনামধন্য চিকিৎসক বলে বিধানচন্দ্র রায় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী৷ মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে ১৯৪৮ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন৷ এবং ১৯৬১ সালে ১ জুলাই মৃত্যুর দিন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলে গিয়েছেন৷

 

এম কান্নামওয়ার: মহারাষ্ট্রের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী কান্নামওয়ার ১৯৬২ সালে ওয়াইবি চবনের স্থলাভিষিক্ত হন৷ তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে পুরো মেয়াদকাল কাটিয়ে যেতে পারেননি৷ মাত্র একবছর চারদিন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন৷

বলবন্তরাই মেহতা: ভারতের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ইনি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি ভারক-পাক যুদ্ধের সময় প্রাণ হারান৷ ১৯৬৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী জিভরাজ নারায়ণ মেহতার স্থলাভিষিক্ত হন৷ ১৯৬৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক যুদ্ধের সময় তাঁর বিমানকে গুলি করে নামায় পাকিস্তান৷ তিনি ছাড়া আরও অনেক বিমানযাত্রী প্রাণ হারান৷

বলবন্তরাই মেহতা

সিএন আন্নাদুরাই: মাদ্রাসের পঞ্চম ও শেষ মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই রাজ্যের নাম পরিবর্তনের পর তামিলনাডুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন৷ তবে মাত্র ২০দিনের জন্য৷ ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্ক যান৷ অপারেশনের পর ফিরে এসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান৷ কিন্তু ১৯৬৯ সালে স্বাস্থ্য অবনতি হয় তাঁর৷ সেই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মারা যান তিনি৷

দয়ানন্দ বান্দোকর: পর্তুগীজদের হাত থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দয়ানন্দ হন গোয়ার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী৷ ১৯৬৩, ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে পরপর নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন? ১৯৭৩ সালে মারা যান দয়ানন্দ৷

বরকতুল্লা খান: রাজস্থানের একমাত্র মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী খান ৫৩ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান৷ তিনি ৯ জুলাই ১৯৭১ থেকে ১১ অক্টোবর ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন৷

শেখ আবদুল্লা: ‘শের-ই-কাশ্মীর’ বলে পরিচিত আবদুল্লা হলেন ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের প্রতিষ্ঠাতা৷ রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ১৯৮২ সালে মারা যান৷

শেখ আবদুল্লা

এমজি রামাচন্দ্রন: তামিল ফিল্ম জগতে সমানভাবে দাপট দেখানোর পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এমজি রামাচন্দ্রন৷ প্রথম অভিনেতা যিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন৷ দশবছর তিনি তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন৷ ১৯৮৭ সালে মারা যান তিনি৷

ছিমানভাই প্যাটেল: ঘনশ্যাম ওঝাকে সরিয়ে ১৯৭৩ সালে তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন৷ কিন্তু বেশিদিন সেই পদে টিকে থাকতে পারেননি৷ ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সরে যেতে হয়৷ ৪ মার্চ ১৯৯০ সালে ফের তিনি রাজ্যেপ মুখ্যমন্ত্রী হন৷ ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ সালে মারা যান তিনি৷

ওয়াইএস রাজাশেখর রেড্ডি: অন্ধ্রপ্রদেশের দু’বারের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএসআর নামে বেশি জনপ্রিয়৷ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে ৩ সেপ্টেম্বর ছিত্তোর জেলার কপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি৷

ওয়াইএসআর রেড্ডি

বিয়ন্ত সিং: পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিং ১৯৯২ সালের ৩১ অগষ্ট চন্ডিগড়ের সচিবালয়ে আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারান৷

দোরজী খাণ্ডু: গিওং আপাংয়ের পর ২০০৭ সালে তিনি হন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী৷ ওয়াইএসআরের মতো তিনিও কপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান৷ তাওয়াং থেকে ইটানগর ফেরার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁর কপ্টার৷ সালটা ছিল ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল৷

মুফতি মহম্মদ সইদ: জম্মু কাশ্মীরের দু’বারের মুখ্যমন্ত্রী ভিপি সিং সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন৷ তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম মুসলিম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ কাশ্মীরে তিনি কংগ্রেস ও বিজেপি-দুই দলের সর্মথনে সরকার গড়েছিলেন৷ ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি মারা যান৷

জয়ললিতা: তামিলনাড়ুর পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যান৷ এমজিআরের হাত ধরেই অভিনয় জগত থেকে তামিল রাজনীতিতে পা রাখেন জয়ললিতা৷ তামিলনাড়ুতে তিনি আম্মা নামেই জনপ্রিয়তা পান৷