স্টাফ রিপোর্টার, খড়গপুর: নাম না করে মানস ভুঁইঞাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করলেন বিধানসভায় কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা তথা তাঁরই একদা সহযোদ্ধা আব্দুল মান্নান। শনিবার সবংয়ের মাটিতে জারজ সন্তানের সঙ্গে মানস ভুঁইয়ার তুলনা করলেন তিনি।

মান্নান সাহেব বলেন, আমি কোনও ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে আসিনি। সবারই একটা পরিচয় থাকে। একজন মানুষ সেই পরিচয় নিয়ে মানুষের কাছে যান। একজন রাজনৈতিক কর্মী তাঁর পরিচয় নিয়ে যান। কিন্তু, যাঁরা তাঁদের জন্ম পরিচয় বলতে পারেন না তাঁদের জারজ সন্তান বলে। যে রাজনৈতিক কর্মী বলতে পারন না তিনি কোন দলের। তাঁর পরিচয়, তিনি জারজ রজনৈতিক কর্মী। আমাদের পাঁচজন বিধায়ক তাঁদের পরিচয় গোপন করে আছেন। পরিচয় দিতে পারছেন না। তাঁরা কোন দলের বলার সাহস নেই। জারজ সন্তানের মতো তাঁরা জারজ রাজনৈতিক কর্মী।

তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন দেখব। যারা জারজ কর্মী হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, চোরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের সদস্যপদ খারিজ করবই। বেইমানদের সাজা দেবই। দিদিমনি, ভাইপোর ছবি টাঙিয়েও রক্ষা করতে পারবেন না। আব্দুল মান্নান বলেন, যিনি পিসি, ভাইপোর কাছে গিয়ে মাথা নত করেন তিনি কুলাঙ্গার। সৎ সাহস থাকলে স্পিকারকে জানিয়ে দিন, আপনি কোন দলের। চোরের মতো পালিয়ে না গিয়ে চিঠির উত্তর দিন।

একই মঞ্চ থেকে এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি মানসবাবুকে তৃণমূলের গেটকিপার বলে মন্তব্য করেন। অধীরবাবু বলেন, আমি বিশ্বাস করি, তৃণমূল মানসবাবুর বিরুদ্ধে মিথ্যা খুনের মমালা করেছিল। যখন দেখলাম, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করল। আবার সেই পুলিশই আদালতে গিয়ে বলল, মানসবাবু নির্দোষ। তখন বুঝলাম, পিএসির চেয়ারম্যান পদের দাবিটা তাঁর অজুহাত ছিল। বাঁচার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। সেই মানস, ভারতী এক মঞ্চে বসে মমতার প্রশংসা করছেন। দশ দিন না হয় জেল খাটতেন, তাতে কী এমন হত! এখন তিনি তৃণমূলের গোডাউনের গেট কিপারের কাজ করছেন। এটা ভাবলেও লজ্জা হয়।

এদিনই পালটা সভা করে মানস জানান, খুব শীঘ্রই চাঁপদানি ও বহরমপুরে সভা করে এসব কথার উত্তর দেবেন।পালটা সভায় মানসবাবু বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী মতামতকে গুরুত্ব দিতে হয়। সম্মান করতে হয়। কিন্তু, সব শেষে দল যেটা বলবে সেটাই শেষ কথা। তিনি বলেন, অধীর আমার চেয়ে ছোট। মান্নান বন্ধু। আমি খুব শীঘ্রই চাঁপদানি ও বহরমপুরে গিয়ে সভা করব। সেখানে গিয়েই জবাব দেব। তিনি বলেন, মান্নান সাহেব আমাকে মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না। মহাত্মাগান্ধী, নেহরুজি, প্যাটেলজি, ইন্দিরাজি, রাজীবজি, সোনিয়াজি ও রাহুলের কংগ্রেসে এ কাদের দেখছি! ওঁরা কংগ্রেসের পবিত্রতা নিয়ে দল করতেন। সম্মানের কথা বলতেন। আর এরা আমাকে জারজ সন্তান , গেট কিপার বলছেন। কংগ্রেসের সংস্কৃতি, দর্শন, ঐতিহ্য, প্রগতির ইতিহাস একথা বলে না। ঈশ্বর, আল্লা এদের করুণা করুন।

মানসবাবু এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মা বলে সম্বোধন করেন। বলেন উনি ভারতের সর্ব শ্রেষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি কংগ্রেস ছাড়িনি। কংগ্রেস আমায় সাসপেন্ড করেছে। সেদিন মমতা আমাকে ডেকে নিয়েছিলেন। সম্মান দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের গেটকিপার হওয়া গর্বের। গেটকিপার হয়ে যদি তৃণমূলের ভাঁড়ার সামলাতে হয় মাথা উঁচু করে গর্ব করে সেই দায়িত্ব পালন করব।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।