স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মাদ্রাসা বিতর্কে তৃণমূল সরকারের পাশেই দাঁড়ালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান৷ তাঁর বক্তব্য, হঠাৎ করে এখানকার মাদ্রাসাগুলিকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর বলার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মাদ্রাসাগুলিকে যুবক-যুবতীদের মগজ ধোলাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে বাংলাদেশি জঙ্গিরা। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানান হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক জঙ্গি শিবির চলছে। সেই শিবিরে নিয়মিত যাতায়াত করেন কুখ্যাত জঙ্গিরা। অভিযোগ, শুধু আত্মগোপনের জন্য নয়, এই মাদ্রাসাগুলিতে প্রশিক্ষণও চলছে।

পড়ুন: বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত মুকুল ঘনিষ্ট নেতা

এ বিষয়ে বুধবার আবদুল মান্নান বলেন, “অনেক ছাত্র পড়ে মাদ্রাসাতে। অনেক হিন্দু শিক্ষকও রয়েছেন। কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যদি কেউ এধরনের কথা বলেন, তা সংবিধানবিরোধী। বাংলার কথা উল্লেখ করে, বাংলার সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে আঘাত করা হয়েছে। আমাদের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে ঠিকই, কিন্তু এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

এদিন এবিষয়ে যৌথ প্রস্তাব আনার জন্য সওয়াল করেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অধ্যক্ষকেও অনুরোধ করা হয়। রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, “সার্বিকভাবে মাদ্রাসাকে বললে ভুল। কোনও ব্যক্তি বা কোনও ছাত্র যদি সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব কথা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে। একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব আসা উচিত। বিজেপি বাদ দিয়ে তাতে সকলেই সম্মতি জানাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। প্রশ্ন হল, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা সাড়ে চোদ্দ শ’ বছর ধরে চলে আসছে। কোনও মাদ্রাসায় কোনও নাশকতা, সন্ত্রাস নেই।”

উল্লেখযোগ্য বিষয়, বুধবারই সীমান্তের অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারকে ৩১৬ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের অনুমোদন দিয়েছে মোদী সরকার। সীমান্ত নিরাপত্তায় গোটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থ সহযোগিতা করা হয়েছে বাংলাকে।