ফাইল ছবি

কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরে দল পরিচালনায় হওয়া নানাবিধ ভুল স্বীকার করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গেই উঠে এল নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক মঞ্জু বসুর প্রসঙ্গ।

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার একাধিক পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। ওই জেলা সহ অন্যান্য একাধিক জেলার পঞ্চায়েতে ফুটেছে পদ্ম। এই অবস্থায় মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই বৈঠকেই ওঠে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার প্রসঙ্গ। এই জেলারই একাধিক পুরসভার দখল নিয়েছে বিজেপি। কেবলমাত্র কাউন্সিলর এবং বিধায়ক ভাঙিয়েই ওই সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। এদিনের বৈঠকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে দেখা গিয়েছে নেত্রী মমতাকে। চলতি সপ্তাহের সোমবারেই ওই জেলার গারুলিয়া পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। ১২ জন কাউন্সিলর নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ওই পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল সিং।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে সুনীলবাবু নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক। ২০১৮ সালে উপনির্বাচনে জিতে তিনি বিধায়ক হয়েছিলেন। সেই উপনির্বাচন ঘিরে ঘটেছিল চরম নাটক। যার মুখ্য চরিত্র ছিলেন ওই কেন্দ্রেরই প্রাক্তন বিধায়ক মঞ্জু বসু।

নোয়াপাড়ার তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু খুন হয়েছিলেন ২০০০ সালের পয়লা এপ্রিল। সেই খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীরা এখনও অধরা। ওই খুনের ঘটনার পর কেটে গেছে ২০ বছর। বিকাশ বসুর স্ত্রী মঞ্জু বসু দু’বারের তৃণমূল বিধায়কও হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেই প্রার্থী করেছিল দল। কিন্তু তৃণমূলের ভরা বাজারেও বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে যান।

এরপরে ২০১৭ সালে জয়ী বিধায়ক মধুসূদন ঘোষের মৃত্যু হলে ২০১৮ সালে জানুয়ারিতে ওই কেন্দ্র উপনির্বাচন হয়। সেই সময়ে সুনিল সিং-কে প্রার্থী করে তৃণমূল। সেই সময়েই প্রার্থী হিসেবে মঞ্জু বসুর নাম ঘোষণা করে বিজেপি। কিন্তু নিজেকে তৃণমূলের কর্মী বলে দাবি করে সেই প্রার্থীপদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মঞ্জুদেবী। তৃণমূল প্রার্থী সুনীল সিং সেই উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হয়েছিলন। যিনি বর্তমানে বিজেপিতে।

এদিন সেই বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি জানিয়েছেন যে বিকাশ বসুর স্ত্রীকে টিকিট না দিয়ে ভুল করেছিলেন। এই বিষয়ে মঞ্জু বসুর প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি এখন প্রতিক্রিয়া দেওয়ার অনেক উর্ধ্বে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “নেত্রী আমার কথা বলেছেন এটা আমার কাছে আশীর্বাদ।”

২০১৮ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থী পদ না পাওয়া নিয়ে মনের মধ্যে কোনও ক্ষোভ নেই বলে জানিয়েছেন নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক মঞ্জু বসু। তিনি বলেছেন, “উপনির্বাচনে টিকিট না পাওয়া নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। ২০১৬ সালে আমায় ষড়যন্ত্র করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখনই ২০১৮ সালের পটভূমি তৈরি হয়ে গিয়েছিল।” তাহলে ফের নেত্রী ডাকলে কী প্রার্থী হবেন? এই প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু দেবী বলেছেন, “এটা তো অনেকটা ‘আমি পাখি হলে উড়তে পারতাম’ ধরণের। রাজনীতি নিয়ে এখন আর আমার কিছুই বলার নেই।”