তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন বিষ্ণুপুর ঘরানার শিল্পী প্রখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত মণিলাল নাগ। শনিবার রাতেই বাঁকুড়ায় এই খবর এসে পৌঁছেছে। বাঁকুড়া শহরের রামপুরের বাসিন্দা মনিনাল নাগের এই ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপ্তির খবরে সারা রাজ্যের সাথে গর্বিত এই জেলার মানুষও।

১৯৩৯ সালের ১৬ আগষ্ট বাঁকুড়ায় জন্ম মনিনাল নাগের। একদম ছোটো বেলায় বাবা ‘ভুয়ালকা’ সম্মানে সম্মানিত গোকুল নাগের কাছে সেতারে তাঁর হাতেখড়ি। ১৯৫৩ সালের সর্বভারতীয় এক সংগীত সম্মেলনে তিনি প্রথম প্রকাশ্য মঞ্চে সেতার বাজান।

১৯৫৪ সাল থেকে তিনি জাতীয় সংগীত ও আকাশবাণী সংগীত সম্মেলনে বেশ কয়েকবার সঙ্গীতানুষ্ঠান করছেন। একই সঙ্গে বহুবার বিদেশেও গেছেন। আরো পরে ১৯৭৩ সালে, মনিলাল নাগ ভারত সরকারের আইসিসিআর আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে আমন্ত্রণ সঙ্গীতানুষ্ঠান করেন।

১৯৭৯ সালে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের ১৫০ তম বার্ষিকী অনুষ্ঠান, ভারত মহাসাগর আর্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত সরকারের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সঙ্গীত রিসার্চ একাডেমির সদস্য ছিলেন মণিলাল নাগ।

এছাড়াও ২০০১ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, ২০০৮ সালে, এশিয়াটিক সোসাইটির স্বর্ণপদক যেমন পেয়েছেন, তেমনি রাজ্যের তরফে ‘বঙ্গ বিভূষণ’, ‘ডোভার লেন সঙ্গীত সম্মানের মতো অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মানে’ সম্মানিত হয়েছেন তিনি। বিশিষ্ট এই সেতার বাতককে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ বলেছিলেন, ‘ভারতবর্ষের সেতার ঘরানার একমাত্র পরিবার হল নাগ পরিবার।’

‘পদ্মশ্রী’ সম্মান প্রাপ্তির খবর পাওয়ার পর এই কিংবদন্তি শিল্পী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘বিষ্ণুপুর শাস্ত্রীয় সংগীতের ঘরানাই হল প্রকৃত ঘরানা। সেই ঘরানার একজন শিল্পী হিসেবে জাতীয় সম্মানে ভূষিত হওয়ায় তিনি যথেষ্টই খুশী।

বাঁকুড়া জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক সন্তোষ ভট্টাচার্য বলেন, আজ জীবন সায়াহ্ণে এসে ৮১ বছর বয়সী সঙ্গীত শিল্পী মণিলাল নাগের এই জাতীয় সম্মান প্রাপ্তি বাংলা ও বাঙালির কাছে অন্যতম বড়ো প্রাপ্তি। জেলাবাসী হিসেবে এই খবরে তিনি যথেষ্ট খুশি ও গর্বিত বলেই জানিয়েছেন।