ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার,কলকাতা: চোর অপবাদে এক যুবককে গনপ্রহার৷ হাসপাতালে মৃত বলে ঘোষণা৷ এলাকায় চাঞ্চল্য৷ ঘটনাটি ঘটেছে মানিকতলা থানার মুরারীপুকুরের একটি ক্লাবে৷ তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷ বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ৷

বুধবার ভোররাতে হরিশাহাটে এক যুবককে চোর সন্দেহে ধরা হয়৷ তাকে সেখান থেকে মানিকতলার মুরারীপুকুরের একটি ক্লাবে নিয়ে আসা হয়৷ সূত্রের খবর, ধৃত যুবককে ওই ক্লাবের ভিতরে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড মারধর করা হয়৷ হাত পা বেধে তাকে মারধর করা হয়৷ এবং অচৈতন্য অবস্থায় তাকে তালা বন্দি করে রাখা হয়৷ দুপুরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে৷ তালা ভেঙ্গে যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে৷

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এত বড় একটি ঘটনা ঘটে গেল আর পুলিশ জানতে পারল না৷ যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে তা মানিকতলা থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে৷ মৃত যুবকের পরিচয় জানা যায়নি৷ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে পুলিশ কুকুর৷ মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে৷ সেই রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসার পরই জানা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারন৷

কয়েক মাস আগে লেকটাউন থানা এলাকার দক্ষিণদারিতে চোর সন্দেহে প্রকাশ্যে চলে গণধোলাই৷ এক জন নয়,দু’জনকে রাস্তার ডিভাইডারে বেঁধে চলে গণপ্রহার৷ খবর পেয়ে লেকটাউন থানার পুলিশ এসে বাবু সামন্ত ও সঞ্জয় ভূইয়া নামে দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতাল পাঠায়৷ এই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে৷ ধৃতরা হল,মনোহর কুমার রায় ও সুনীল কুমার রায়৷

প্রশাসন মাঝে মাঝেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্য প্রচার করে থাকেন যে, নিজেদের হাতে আইন তুলে নেবেন না৷ সে প্রচার যে, কোনও কাজেই আসছে না, তা বোঝা গেল বুধবারের ওই ঘটনায়৷ লেকটাউন থানার কাজি নজরুল ইসলাম সরণি৷ তার পাশেই দক্ষিণদারিতে রাস্তার ডিভাইডারে বাঁধা দুই ব্যক্তি৷ দড়ি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাদের হাত ও পা৷ গায়ের পোশাক খুলে নিয়ে চলছে গণধোলাই৷

শুধু তাই নয়, একটি কাপড়ে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারার ভয়ও দেখানো হয়৷ সে সময় তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এনেকেই৷ তাছাড়া পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে একের পর এক যাত্রী বোঝাই বাস৷ সবাই একবার মুখ বাড়িয়ে দেখছেন কিন্তু কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি৷ অমানবিক শহর কবে মানবিক হবে উঠছে প্রশ্ন?