মানিকচক: বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে কেরোসিন তেল ঢেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মানিকচক থানার শিবনটোলা গ্রামে। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, নৃশংষ এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মহিলা ও তাঁর প্রেমিক পলাতক। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। মহিলার আত্মীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মহিলার প্রেমিকের বাড়ির লোকজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে পুলিশের। সম্ভাব্য যে যে জায়গায় দু’জনে যেতে পারেন সেই সব জায়গাতেই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ ওই ব্যক্তির নাম জগন্নাথ মণ্ডল। পেশায় শ্রমিক জগন্নাথের স্ত্রী অর্চনা মণ্ডল। প্রতিবেশী যুবক মনোজ মণ্ডলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় অর্চনার। অগ্নিদগ্ধ জগন্নাত মণ্ডলের মা জানান, তাঁর ছেলে জগন্নাথ মণ্ডল ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। বেশ কিছুদিন পরপর বাড়ি ফেরেন জগন্নাথ। স্থানীয় যুবক মনোজ মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর পুত্রবধূর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ প্রৌঢ়ের।

এমনকী প্রায়ই অর্চনার বাড়িতেও মনোজের যাতায়াত ছিল বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে জগন্নাথেরও বিষয়টি নজরে আসে। মনোজের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই স্বামী জগন্নাথের সঙ্গে ঝগড়া হত অর্চনার। কয়েকদিনের মধ্যেই এই ঝগড়া চরম আকার নেয়। রাগ করে বাপের বাড়িতে চলে যান অর্চনা।

বুধবার রাতে আচমকাই ফের শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন অর্চনা। অভিযোগ রাতের অন্ধকারে প্রেমিক মনোজকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চুপিসারে ঢোকেন অর্চনা। জগন্নাথের ঘরের দরজায় কড়া নেতে তাঁকে ডাকা হয়। দরজা খুলতেই জগন্নাথের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেওয়া হয়। তারপর ঘরেও কেরসোনিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার শুরু করেন জগন্নাথ মণ্ডল। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় অগ্নিদগ্ধ জগন্নাথকে। পরে মালদহ মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে। এদিকে, হুড়োহুড়ির মধ্যেই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যান জগন্নাথের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিক। অন্যদিকে, হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ জগন্নাথ মণ্ডলের শরীরের নব্বই শতাংশ অংশই পুড়ে গিয়েছে।