আগরতলা: কুড়ি বছর টানা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, এমনই ব্যক্তিত্ব মানিক সরকারকে ঘেরাও করে রাজনৈতিক বিতর্কে ফের আড়াল বিজেপি। যেহেতু এলাকাটি ধনপুর বিধানসভার অধীনে এবং মানিকবাবু এখানকার বিধায়ক তাই বিতর্ক আরও চরমে। এই কেন্দ্র থেকেই টানা নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।

সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক গৌতম দাসের অভিযোগ, সোনামুড়ার মাছিমায় পুড়িয়ে দেওয়া অফিস পরিদর্শন করতে যাওয়ার পথে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার সহ বাম বিধায়কদলকে বাধা দেয় বিজেপি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশকে সব জানানো হয়েছিল। তারপরেও এভাবে ঘেরাও মানা যায় না। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

সিপিএমের দাবি, গত ১২-নভেম্বর শাসক দল বিজেপির মিছিল থেকে ধনপুর বিধাসভা কেন্দ্রের মাছিমা বাজারের দলীয় কার্যালয় তে হামলা করা হয়। পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় সেটি। বৃহস্পতিবার মানিকবাবু ও বাম বিধায়কদের প্রতিনিধিরা এলাকায় ঢুকতে গিয়ে ঘেরাও হতেই রাজনৈতিক মহল সরগরম। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস জানান, বিজেপি নেত্রী তথা সংসদের ভাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মানিক সরকারের কনভয় ঘিরে রাখার ঘটনায় সিপিএম সরাসরি অভিযুক্ত করেছে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিকের ভাইকে। অভিযোগ, পশ্চিম ত্রিপুরার বিজেপি সাংসদের ভাই বিশ্বজিৎ ভৌমিক এই ঘেরাওয়ের নেতৃত্ব দেয়। বুধবারই আগরতলায় বিরাট কৃষক সমাবেশ করে বিরোধী সিপিএম। রাজ্যে কৃষকদের দুর্দশা বাড়ছে অথচ সরকারের হুঁশ নেই বলেই দাবি বাম সংগঠনের।

অপর বিরোধী দল কংগ্রেসও মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের নেতৃত্বে চলা বিজেপি-আইপিএফটি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। আসন্ন উপজাতি স্বশাসিত এলাকা এডিসি নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি গরম হচ্ছে ত্রিপুরায়। বিজেপির শরিক দল আইপিএফটি নেতৃত্ব পৃথক তিপ্রাল্য়ান্ড দাবিতে অনড়। এর জেরে সরকারের দুই শরিকের ফাটল বাড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।