সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: সম্প্রতি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছে ব্রিটিশরা। এই ঘটনার আগেই এরকমই এক ঘটনা ঘটে গিয়েছিল যার নেপথ্যে ছিল তৎকালীন ভারতীয় রাজারা। নিহত হয়েছিল হাজারেরও বেশী অসহায় মানুষ। ঘটনাস্থল রাজস্থান গুজরাতের সীমান্ত অঞ্চলের আরাবল্লী পর্বতের সানুদেশ। প্রাণ গিয়েছিল সেখানে বসবাসকারী ভীল উপজাতিদের।

১৯০০ সালে ভয়াবহ খরা হয়েছিল সানুদেশ। সবথেকে খারাপ অবস্থা হয়েছিল বাঁশোয়ারা ও শান্তারামপুরের। প্রাণ ধারণের তাগিদে সরল উপজাতিরা চুরি ও ডাকাতি করতে শুরু করল। খাবার ছিল আকন্ঠ মদ।

সেই সময় গোবিন্দ গিরি নামে এক ভীল সানুদেশের গ্রামে জঙ্গলে ঘুরে তিনি প্রচার করতে শুরু করেন চুরি ডাকাতি মদ্যপান করা পাপ। জমিদারদের বেগার খাটানোও অন্যায়। ভীলরা ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দাবীতে একত্রিত হল। গোবিন্দ গিরির ডাকে ব্যাপক সারা মিলল।

ভূস্বামীদের জমির চাষবাস একরকম বন্ধই হয়ে গেল।বিপদে পড়ল দেশীয় রাজা ও ভূস্বামীগণ, মজুরের অভাবে তাদের সব কাজ বন্ধ হয়ে গেল। তারা এও আশঙ্কা করল হয়তো এরা আলাদা ভীল রাজ্য গঠন করবে। সাহায্য চেয়ে পাঠালো ইংরেজ পলিটিক্যাল এজেন্টের কাছে।

১৯১৩ ,১৫ নভেম্বর। গোবিন্দ তাঁর অনুগামীদের নিয়ে মানকড় নামে এক স্থানে ভীলদের মঙ্গল কামনায় বিশাল যজ্ঞের আয়োজন করেছিল। লাখ খানেক মানুষ জড়ো হয়েছিল সেদিন।

এমনদিনেই ইংরেজ এজেন্ট হ্যামিল্টন বাঁশোয়ারা শান্তারামপুর আর দুঙ্গারপুর রাজ্যের দেশীয় সেনার সঙ্গে বৃটিশ ফৌজ দিয়ে ঘিরে ফেলল মানগড়। অপারেশনের নেতৃত্বে কর্ণেল শার্টন, মেজর এস.বেইলি এবং ক্যাপ্টেন স্টিলে। মানগড়ের চারদিক ঘিরে শুরু হলো গুলিবর্ষণ। ব্যবহার করা হয়েছিল ভারী মেশিনগান ও খচ্চরের পিঠে চাপিয়ে তোলা কামান। বারোশ থেকে দেড় হাজার ভীলের রক্তে ভিজে উঠলো আরাবল্লীর পাথুরে মাটি। সাঙ্গ পরাধীন ভারতের বীভৎস এক গণহত্যা।

ধরা পড়ল গোবিন্দ গিরিসহ তাঁর বহু অনুগামী। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিযোগে ১৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯১৪ সালে উদয়পুরের এক আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করে। ভালো ব্যবহারের জন্য যদিও তিনি ১৯১৯ সালে মুক্তি পান কিন্ত কোন দেশীয় রাজাই তাকে নিজেদের রাজ্যে বাস করার অনুমতি দেননি।

বিগত একশো বছর ভীলদের এই আত্মত্যাগ দেশবাসীর কাছে ছিল অজানা। ২০১৫ সালে গোধরাতে স্থাপন করা হয় গোবিন্দ গুরু বিশ্ববিদ্যালয়।