প্রতীকী ছবি

ভোপাল: মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে ৮ বছরের এক বালিকার গণধর্ষণ–কাণ্ডে উত্তাল গোটা রাজ্য। অপরাধীর ফাঁসি চেয়ে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমেছে। দিল্লির ‘‌নির্ভয়া’কাণ্ডের মতোই‌ সাধারণ মানুষ ধর্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

এদিন নির্যাতিতা শিশির বাবা বলেন কোনও ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই। আমার মেয়ে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। এই কষ্টের একটাই সমাধান হয়। আর তা হল ফাঁসি।

মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, ধর্ষকদের যাতে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সম্ভব হয় তার জন্য পুলিসকে তৎপর হতে বলা হয়েছে। তার আগে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ধর্ষকদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই, তারা পৃথিবীর বোঝা। মান্দসৌরের ৮ বছরের শিশুকে স্কুলের বাইরে থেকে অপহরণ করে ধর্ষণ করার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘‌এই শয়তানরা পৃথিবীর বোঝা। এদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌ধর্ষণের মত মামলার দ্রুত শুনানির জন্য গঠন করা হয়েছে ফাস্ট ট্র‌্যাক কোর্ট। আমরা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের কাছেও অনুরোধ করব যে এ ধরনের অপরাধীদের যত শীঘ্র সম্ভব শাস্তি দেওয়া হোক’‌।

৮ বছরের বালিকা ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘‌৮ বছরের বালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করা হয়েছ। ধর্ষণ্ডকাণ্ডে আমি ব্যথিত। মৃত্যুর সঙ্গে সে লড়াই করছে। বালিকার ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, সেটা ভেবে আমার অসুস্থ লাগছে। এই ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ারও দাবি তুলেছে কংগ্রেস।

গত মঙ্গলবার স্কুল থেকে ফেরার পথে শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায় ইরফান, আসিফ সহ–আরও কয়েকজন। বুধবার সকালে উদ্ধার হয় শিশুটির ক্ষতবিক্ষত অসার দেহ। গণধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করা হয়েছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পাঁচ চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্ত আসিফ ও ইরফানকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। এই ঘটনায় তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে সিট।