কলকাতা : পয়লা জুন থেকে বাংলায় খুলছে মন্দির মসজিদ গির্জা গুরুদ্বার৷ ৮ জুন থেকে সরকারি বেসরকারি অফিস পুরোপুরি খুলে যাবে। ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করা যাবে। জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, মন্দির মসজিদ গির্জা গুরুদ্বার খুললেও মানতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। যেমন কোনও ধর্মস্থানে একসঙ্গে ১০ জনের বেশি ঢোকতে পারবেন না। প্রত্যেককেই মাস্ক পরতে হবে। মন্দির মসজিদে স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবে ধর্মস্থানে কোনও জমায়েতও করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি আরও বলেন, ট্রেনে গাদাগাদি করে যদি এতো লোক আসতে পারে, তাহলে মন্দির, মসজিদ, গির্জা কী দোষ করল? কেন্দ্র এমন করলে, কেন আমি সব বন্ধ রাখব? ১ জুন থেকে মন্দির, মসজিদ, গির্জা, গুরুদ্বার খুলবে। সকাল ১০টা থেকে মন্দির খোলা যাবে৷ এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে মানুষ একটু প্রার্থনা করার সুযোগ পাবে।

এছাড়া করোনার সঙ্গে লড়াই করতে গেলে অনেক কিছু বদলাতে হবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, একসঙ্গে সবাই বাজার করতে গেলে রোগ বাড়বে। করোনার সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, প্রথম ২ থেকে ৩ মাস বাংলায় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু করোনার মধ্যেই আমফান, জোড়া বিপর্যয়।

অন্যদিকে, বাসে ২০জনের বেশি নেওয়া যাবে না বলে ফের একবার স্মরণ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি স্বীকার করে নেন যে, অনেক লোকসান হচ্ছে, কিন্তু কী করা যাবে? সাধারণ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাসে ওঠার জন্য কন্ডাক্টরের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। বাসে যা আসন আছে, তাতেই যাবেন, দাঁড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বাসে অবশ্যই মাস্ক পরুন, বাসে ওঠার সময় স্যানিটাইজ করুন৷

স্কুল কবে খুলবে তা নিয়েও বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুরো জুন মাস বন্ধ থাকবে স্কুল। ভিন রাজ্য থেকে এলে গ্রামে স্কুলেই কোয়ারেন্টাইন। কোয়ারেন্টাইনে ৭দিন রাখার পরে হবে করোনা পরীক্ষা। ১০দিন পরে করোনা না পেলে বাড়ি পাঠানো হবে। চা জুটমিলও ১০০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।