সুমন মণ্ডল, তমলুক: মন্দারমণির সমুদ্র সৈকতে রবিবারের গাড়ি দুর্ঘটনার পর অবশেষে ঘুম ভাঙল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসনের। সমুদ্র সৈকতে নজরদারির ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগে মন্দারমণি কোস্টাল থানার অফিসার-ইন-চার্জ রাজা মণ্ডলকে ‘ক্লোজ’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এদিন সকালের পর থেকে সমুদ্র সৈকতে সমস্ত গাড়ি চলাচলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক দীনেশ রঞ্জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে পুলিশ। ধৃতকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে দু’হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনে মুক্তি দেন বলে আদালত সূত্রে খবর।

রবিবার সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মন্দারমণি সমুদ্র সৈকতে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে সদ্য ২১শে পা দেওয়া কলকাতার তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর সমুদ্র সৈকতের নিরাপত্তা ও নজরদারির অভাব নিয়ে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে, মন্দারমণি গ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ও সৈকতের অদূরে গজিয়ে ওঠা হোটেলগুলিতে যাওয়ার জন্য সৈকত ব্যবহার করা ছাড়া কোনও বিকল্প রাস্তা নেই৷ ফলে, রবিবারের সকালে দুর্ঘটনার পরেও সৈকত দিয়ে গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পুলিশি গড়িমসি অভিযোগ ওঠে। সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে অবাধে গাড়ি চলাচলের ছবিও ধরা পড়েছে৷ কিন্তু, বেলা বাড়ার পর এই নিয়ে শোরগোল পড়ে যাওয়ায় জেলা পুলিশ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৈকতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। সৈকতে নামার পথগুলিতে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার আলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, মন্দারমণি থানার ওসি রাজা মণ্ডলকে ক্লোজ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে কোনও ভাবেই যাতে গাড়ি চলাচল করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সমুদ্র সৈকত এলাকায় নজরদারি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে, গ্রামবাসীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে শীঘ্রই জেলা শাসক, দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করা হবে। আগামী দিনে কিভাবে মন্দারমণি গ্রামের মানুষদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যাবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

অন্যদিকে, এই গাড়ি দুর্ঘটনায় বিরুদ্ধে মন্দারমণির স্থানীয় বাসিন্দা সেখ দিলদারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএমডব্লিউ গাড়ির চালক দীপেশ রঞ্জনকে সোমবার পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, দীনেশ রঞ্জন আদতে কলকাতার বাসিন্দা হলেও তাঁর বাকি তিন সঙ্গী ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বাসিন্দা। কাজের সূত্রে শনিবার তাঁরা খড়গপুরে এসেছিল। সেখান থেকে রাতের দিকে কাজ সেরে তাঁরা কিছু সময়ের জন্য মন্দারমণি, দীঘা ঘুরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে রবিবারের ভোরে মন্দারমণিতে আসে। সকালে দিনের আলো ফোটার পর তাঁরা সমুদ্র তীরবর্তী হোটেলগুলিতে খোঁজ নিচ্ছিল কিছু সময় কাটানোর জন্য। একটি হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার সময়ে ফোর্ড গাড়িটি সজোরে এসে তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। পুলিশ সুপার আলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, এই গাড়ি দুর্ঘটনায় কে দোষী, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কারণ এই ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। তবে, স্থানীয় যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে বিএমডব্লিউ গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ২৭৯, ৩৩৮ এবং ৩০৪/এ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযুক্ত চালককে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে জামিনে মুক্তি দিয়েছেন।