মন্দাক্রান্তা সেন, (সাহিত্যিক): অনেক বলেন দুজন সাধুকে খুন করা হয়েছিল তাদের নাম ছিল ভ্যালেন টাইন। সেখান থেকেই ভ্যালেন্টাইন ডে এসেছে। আরও একটা তথ্য পাই একজনকে খুন করা হয়েছিল যিনি রোমান সৈন্যবাহিনীর মধ্যে দুজনের বিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি প্রেমের বার্তা বহন করেছিলেন বলে তাঁর নামে আমরা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করি। এখন সেটা আন্তর্জাতিক ভালবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

ভালবাসা চিরদিনের, চিরকালের এবং সারা বছরের অবশ্যই। তাই একটা নির্দিষ্ট দিনকেই ভালবাসার দিন হিসেবে ধরে নেওয়ার কোনও দরকার নেই। পরস্পরকে ভালবেসে রোজই চুমু খেতে পারি। রোজই গোলাপ দিতে পারি। আমি যেমন জন্মেছি তাই আমার একটা জন্মদিন আছে। তেমনই ভালবাসার একটা দিন আমরা প্রতীক হিসেবে ভালবাসার জন্মদিন পালন করি। এভাবেও ভাবা যেতে পারে।

ভালবাসাকে কমার্শিয়ালি গ্লোরিফাই করার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এখন ভালাবাসা নিয়ে একটা বাড়াবাড়ি রকমের বিজ্ঞাপন দেখছি। তবে সব কিছুর পরে যেহেতু সেটা ভালবাসারই দিন। ভ্যালেন্টাইন ডে পাল করাটা একটা উৎসবই বটে। এখন দেখছি একটা সপ্তাহ ধরে রোজ ডে, চকলেট ডে, কিস ডে আরও আট কি! এগুলো যে কোথা থেকে আসে।

এসব আমরা ছোটবেলায় শুনিনি। তবে ভ্যালেন্টাইন ডে আমরা ছোটবেলায় শুনেছি। স্কুলে ৮/৯-এ পড়ার সময় থেকেই এই দিনটা দেখছি। স্কুলে একটা ব্যাপার ছিল কোনও কোনও বড় ক্লাসের দিদিকে পছন্দ করতাম। তাকে মাঝেমধ্যে চকলেট দিতাম। আমরা বলতাম ফ্যান হওয়া। যেমন স্টারেদের ফ্যান হওয়া যায় তেমনি আমরা কোনও এক দিদির ফ্যান হতাম। সেটাও এক ধরনের ভালবাসা। এর এর সঙ্গে লেসবিহানের কোনও সম্পর্ক নেই। তবু একটা নিরুচ্চার প্রেম ছিল। আমরা ক্যান্ডি দিয়ে চকলট দিয়ে গোলাপ দিয়ে উদযাপন করতাম।

কলেজ লাইফে প্রেমিককে ফুল দিয়েছি, কার্ড দিয়েছি। এখন ভালবাসাকে অনেক গভীর বলে মনে হয়। আমি আলাদা করে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করি না। আমার হাসবেন্ডকে আলাদা করে উইশ করি না। এটা ছোটদের মধ্যেই আনন্দের ব্যাপার বলে মনে করি। পৃথিবী খুব সহিংস হয়ে উঠেছে আজকাল। মানুষে মানুষে ভালবাসার ব্যাপারটাই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ভালবাসা উদযাপন করার জন্য একটা দিন যদি ঠিক করা থাকে তাহলে ক্ষতি কী?