লন্ডন: প্রায় একবছর আগে ব্যর্থতাকে সঙ্গী করে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। টটেনহ্যাম ম্যানেজার হিসেবে একবছর বাদে সেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফেরার স্মৃতি তিক্তই হয়ে রইল হোসে মোরিনহোর। সৌজন্যে মার্কাস রাশফোর্ড। ইংরেজ স্ট্রাইকারের জোড়া গোলেই প্রিমিয়র লিগে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে মূল্যবান তিন পয়েন্ট ঘরে এল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের। যা লিগ টেবিলে ছয়ে তুলে আনল তাঁদের।

টটেনহ্যামের নয়া ম্যানেজার হিসেবে পুরনো ক্লাব ম্যান ইউ’য়ের বিরুদ্ধে মোরিনহোর দ্বৈরথ ঘিরে বুধবাসরীয় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চড়ছিল পারদ। নভেম্বরে স্পারসদের দায়িত্ব নিয়ে সবধরনের প্রতিযোগীতা মিলিয়ে তিন ম্যাচে জয়। মেগা ম্যাচেও তাঁর স্ট্র্যাটেজিতে ওলে সোল্কজায়েরকে টেক্কা দেবেন স্পেশাল ওয়ান, স্পারস অনুরাগীদের প্রত্যাশা ছিল তেমনটাই। কিন্তু প্রত্যাশা আর বাস্তবের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, দল মাঠে নামতেই টের পেলেন তারা।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৬ মিনিট। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে কোনাকুনি জোরালো শটে বিপক্ষ গোলরক্ষক গাজানিগাকে পরাস্ত করেন রাশফোর্ড। প্রথম পোস্টে দাঁড়িয়েও যেভাবে গোল হজম করলেন স্পারস দুর্গের শেষ প্রহরী, তাতে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। যদিও পরবর্তী সময়ে রেড ডেভিলসদের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে বেশ কয়েকবার ঢাল হয়ে দাঁড়াল তাঁর বিশ্বস্ত দস্তানা। তা সে রাশফোর্ডের দূরপাল্লার সোয়ার্ভিং শট বাঁচিয়েই হোক কিংবা গ্রিনউডের জোরালো ভলি আটকে।

প্রথমার্ধ জুড়ে ম্যান ইউ’য়ের একতরফা দাপটের মধ্যেই খেলার গতির বিরুদ্ধে ম্যাচে সমতা ফেরায় টটেনহ্যাম। একটি আক্রমণ থেকে ডি গিয়ার প্রতিহত হওয়া বল একক দক্ষতায় দখলে নিয়ে তিনকাঠিতে প্রবেশ করান ডেলে আলি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য ফের এগিয়ে যায় রেড ডেভিলসরা। পরিত্রাতা সেই রাশফোর্ডই। ডান প্রান্ত থেকে বল ধরে বক্সে আগুয়ান ইংরেজ স্ট্রাইকারকে এক্ষেত্রে অবৈধ উপায়ে বাধা দেন স্পারস ডিফেন্ডার মৌসা সিসোকো। পেনাল্টি দিতে কোনওরকম কার্পণ্য করেননি রেফারি।

আর পেনাল্টি থেকে নিশানায় অব্যর্থ থেকে দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন রাশফোর্ড। ম্যাচের বাকি সময়টা দু’দলের বিক্ষিপ্ত কিছু সুযোগ প্রতিহত হয় গাজানিগা ও ডি গিয়ার কাছে। সুতরাং, ম্যাচের ফলাফলে আর কোনও পটপরিবর্তন না হওয়ায় পুরো তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠে ছাড়ে সোল্কজায়েরের ছেলেরা। ম্যাচ হেরে মোরিনহো বলেন, ‘প্রথমার্ধে যে ফুটবলটা ম্যান ইউ খেলেছে তাতে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে ওরা।’