প্যারিস: মিরাকল কিছু করে দেখানোর আশা নিয়ে প্যারিসে পা দিয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড৷ খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা রেড ডেভিলসরা যে এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেটা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেনি ফুটবলপ্রেমীরা৷

সোল্কজায়েরের প্রশিক্ষণে মোরিনহোর জমানার ব্যর্থতার রেশ কাটিয়ে উঠার লক্ষণ দেখালেও ম্যান ইউয়ের হয়ে বাজি ধরতে রাজি হয়নি ফুটবলবিশ্ব৷ প্রথমত, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমন অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের নজির খুব একটা নেই৷ তাছাড়া, প্যারিস সাঁ জা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে যে রকম ছন্দবদ্ধ ফুটবল উপহার দিয়েছে, তাতে ঘরের মাঠে এমবাপেরা যে অত্যন্ত কঠিন ঠাঁই, সেটা অস্বীকার করারও কোনও উপায় নেই৷

আরও পড়ুন: রিয়ালকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটে আয়াক্স

তবে বিশেষজ্ঞদের সব হিসাব ওলট পালট করে প্যারিসে নতুন ইতিহাস লেখে মাঞ্চেস্টার৷ ঘরের মাঠে ০-২ গোলে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও ফিরতি লেগে পিএসজিকে তাদের দূর্গে ৩-১ গোলে পরাজিত করে প্রিমিয়র লিগ জায়ান্টরা৷ দুই পর্ব মিলিয়ে প্রি-কোয়ার্টারের লড়াই ৩-৩ গোলের সমতায় নিষ্পত্তি হলেও পিএসজি’র (২) তুলনায় একটি অ্যাওয়ে গোল বেশি করার সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের টিকিট পকেটে পুরে নেয় ওলে গানার সোল্কজায়েরের দল (৩)৷

যদিও এক্ষেত্রে ভাগ্যের কিছুটা সাহায্য পায় ম্যান ইউ৷ লুকাকুর জোড়া গোল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার কোনও অবকাশ নেই৷ তবে ইনজুরি টাইমে ভিএআরের বদান্যতায় ম্যাঞ্চেস্টার পেনাল্টি না পেলে ছবিটা অন্যরকম হত নিশ্চিত৷ দলের হয়ে কখনও স্পট কিক না নেওয়া রাশফোর্ড এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি থেকে নিজের প্রথম গোল করে ম্যাঞ্চেস্টারের বিজয়গাথা রচনা করেন৷ প্যারিস সাঁ জা’র হয়ে সান্ত্বনা গোলটি করেন জুয়ান বার্নাট৷

আরও পড়ুন: মেয়াদ বাড়ল লাল-হলুদ কোচের

ম্যাচের শুরুতেই থিলোর ভুলের সুযোগ নিয়ে বুফোঁকে পরাস্ত করে ম্যাঞ্চেস্টারকে ১-০ এগিয়ে দেনন লুকাকু৷ ১১১ সেকেন্ডে করা রোমেলুর গোল ২০১০ সালে রুনির করা ৬৩ সেকেন্ডে গোলের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যাঞ্চেস্টারের করা দ্রুততম৷ ম্যাচের ২ মিনিটের মাথায় গোল খেলে পিছিয়ে পড়েলও পিএসজিকে ১২ মিনিটে সমতায় ফেরান জুয়ান৷

প্রথমার্ধের ৭৬ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখলেও ৩০ মিনিটের মাথায় লুকাকুর দ্বিতীয় গোলে পুনরায় পিছিয়ে পড়ে প্যারিস সাঁ জা৷ ১৯৯৭ সালের পর পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে প্রথমার্ধেই জোড়া গোল হজম করে৷

আরও পড়ুন: নজির গড়ে স্পারসকে শেষ আটে পৌঁছে দিলেন কেন

দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিটে কোনও গোল হয়নি৷ তবে ইনজুরি টাইমে বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়ে যায় ম্যাঞ্চেস্টার৷ পিএসজি বক্সে দিয়েগোর শট কিমপেম্বের হাতে লাগলে রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি ঘোষণা করেন, যা শুধু প্যারিস ফুটবলারদেরই নয়, ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায় পিএসজি সমর্থকদেরও৷ যদিও ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে৷

প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে রাশফোর্ড প্রথমবার ম্যাঞ্চেস্টারের হয়ে স্পট কিক নিতে এসে কোনও ভুল করেননি৷ম্যাচের শেষে ইনস্টাগ্রামে ভিএআর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেইমার, যিনি চোটের জন্য মাঠে নামতে পারেননি৷ তবে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন শেষ পর্যন্ত৷

আরও পড়ুন: রিয়াল অধিনায়কের পরিকল্পনায় জল ঢালল আয়াক্স

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউটের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও দল ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হেরে পরের রাউন্ডের টিকিট আদায় করে নেয়৷ পিএসজি’র মাঠে ম্যাঞ্চেস্টার লেখে সেই বিজয়গাঁথা৷