কলকাতা: রাত পোহালেই মহালয়া। আর মহালয়া মানে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় টলিউড বা টেলিউডের নায়িকাদের নতুন রূপে দেখতে পাওয়া। এবছর জি বাংলার মহালয়া উপলক্ষে দুর্গা সপ্তসতী অনুষ্ঠানে টেলিভিশন অভিনেত্রীদের মহামায়ার বিভিন্ন রূপে দেখা যাবে। সেই অনুষ্ঠানে ট্রেনের ইতিমধ্যেই দর্শক দেখেছে। কিন্তু ট্রেলার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ট্রোলিং। আর্ট ট্রোলিংয়ের নিশানায় রয়েছেন উষসী রায়।

জিবাংলা কাদম্বিনী ধারাবাহিকে কাদম্বিনীর চরিত্রে অভিনয় করেন উষসী। উষসীকে জি বাংলার মহালয়া স্পেশাল অনুষ্ঠানে দেবী শতাক্ষীর রূপে দেখা যাবে। পুরাণ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে খরার পরে মানুষের হাহাকার শোনা যাচ্ছিল মর্তে। অনাবৃষ্টির জেরে সমস্ত কিছু খাঁ খাঁ করছিল। কোথাও কোনও শস্যের ফলন নেই এবং জলের অভাবে দুর্বিষহ অবস্থা মর্তের। তখন আবির্ভাব দেবী শতাক্ষীর, যিনি আসলে স্বয়ং মহামায়া। ধরাধামকে আবার সুস্থ করে তুলতে একশটি চোখ নিয়ে আবির্ভূত হন তিনি। আর সেই ১০০ চোখের জল থেকেই পৃথিবী আবার শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠেছিল।

এই অবতারী উষসীকে দেখা যাবে। আর তাই মেক আপে উষশীর কপালে একাধিক চোখ আঁকা হয়েছে। কিন্তু নেটিজেন ট্রোলিং করতে পিছপা হন না। পুরাণের গল্প না জেনে, একাধিক চোখ দেখেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় হাসি ঠাট্টা। উষসীকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মিম। তবে এই ট্রোলিং এর জন্য উষশীর পাশে দাড়িয়ে নেটিজেনদের যোগ্য জবাব দেন অভিনেত্রী মানালি দে এবং শ্রুতি দাস।

মানালি নিজেও গত বছর দেবী শতাক্ষী সেজেছিলেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “আগের বার আমি দেবী শতাক্ষী আর দেবী শাকম্ভরী হয়েছিলাম। কিন্তু তখন বোধহয় ওনারা অন্য কিছু ট্রোল করতে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ওই যাত্রায় আমায় নিয়ে কিছু হয়নি। কিন্তু উষসী রায়কে নিয়ে নানা রকমের ট্রোল হচ্ছে। আসলে বুঝতে পারছি, বাড়িতে আছেন, এটাকে কাজ হিসেবে ভেবে নিয়েছেন। আর আমরা যারা চেনামুখ তারা যাই করি না কেন, ট্রোলড হবই।”

এরপর নিজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন মানালি। তিনি বলছেন, “জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলছি। আমার জীবনের নতুন জার্নি শুরু হলো। প্রচুর জায়গায় দেখলাম এই নিয়ে নানা রকমের কথা লেখা- ‘এটা টিকলে হয়’, ‘অভিনেতাদের এসব হতেই থাকে’, ইত্যাদি। মার্জনা করবেন একটা কথা বলি। একটু পাশে তাকিয়ে দেখুন আপনাদের জীবনেও এরকম ঘটনা ঘটে। আমরা চেনামুখ তাই আমাদেরটা সামনে আসে। আপনাদেরটা আসে না। আর কাজ না থাকলে একটু পড়াশোনা করুন। যাতে দেবী শতাক্ষীর জায়গায় অন্য কোনও অভিনেত্রী অন্য দেবীরূপে সাজলে তাঁকে নিয়ে ট্রোল করে সময় নষ্ট করতে না হয়। কার কটা বিয়ে হল, টিকবে কিনা এগুলো নিয়ে চর্চা করার আগে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখুন।”

ত্রিনয়নী ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শ্রুতি দাস। শ্রুতিও ট্রোলিং এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।