লখনউ: ফয়জল হাসান কাদরি, তিরাশি বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার৷ পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের কাসের কলনের বাসিন্দা পরিচিত ছিলেন তাঁর তৈরি তাজমহলের জন্য৷ হ্যাঁ, শুনে অবাক হলেও এটাই সত্যি৷ শাহজাহানের মতোই, স্ত্রীর উদ্দেশ্য তিনি তৈরি করেছিলেন একটি মিনি তাজমহল৷ শুধু তাই নয়, তাঁর জমি মেয়েদের স্কুল তৈরির জন্য সরকারকে দানও করেছিলেন৷ সেই ফয়জল হাসান কাদরিই বৃহস্পতিবার রাতে বুলন্দশহরে পথ দুর্ঘটনায় মারা যান৷

সূ্ত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাড়ির বাইরে রাত ১০.৩০মিনিট নাগাদ তিনি হাঁটছিলেন৷ সে সময়ই একটি গাড়ি ধাক্কা মারে তাকে৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় গভীর রাতে৷ শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ হাসপাতালেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷ তাঁর এক আত্মীয় মহম্মদ আসলাম জানান, দুবছর আগে বাইসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন তিনি তারপর থেকেই তিনি ওয়াকারের সাহায্যে হাঁটতেন৷

সহধর্মিনীর স্মৃতিতে তৈরি করেছিলেন তাজমহলের রেপ্লিকা৷ ১৯৫৩-র শুরু হয়েছিল তাঁদের পথ চলা৷ নিঃসন্তান দম্পতির একের অপরের প্রতি টান একদিনের জন্যও কমেনি৷ কিন্তু সেই সঙ্গতে ছেদ পড়েছিল ২০১১ সালে৷ কাদরির স্ত্রী তাজামুল্লি বেগম ২০১১ সালেই গলায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন৷ কাদরি তাঁর গ্রামে বাড়ির কাছেই এই রেপ্লিকা তৈরি করেছিলেন৷ আর এর নীচেই শায়িত তাঁর স্ত্রীর দেহ৷

তবে ২০১৪ সালে তাঁর এই তাজমহল তৈরিই আর্থিক কারণে আটকে গিয়েছিল৷ কিন্তু তিনি তা সম্পূর্ণ করেন তাঁর পেনশনের টাকা দিয়ে৷ শুদু তাই নয়, জমানো পুঁজি দিয়ে মার্বেল পাথর কিনে এনেছিলেন এই রেপ্লিকাকে তাজমহলের মতোই রূপ দেওয়ার জন্য৷ এবং সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হলেও, তা যে থেমে থাকবে না তা জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়৷ আর তাঁর ইচ্ছানুযায়ীই তাঁকে শায়িত করা হবে তাঁর স্ত্রীয়ের পাশে, তাঁরই তৈরি তাজমহলে৷