ইন্দোর: দেওয়ালের গা ঘেঁসতে ঘেঁসতে সামনে এগিয়ে আসছিল সাপটি৷ প্রথমে কেউ অতটা খেয়াল করেনি৷ পরে নজর পড়তেই হুলুস্থুলু কাণ্ড৷ ‘স্কুলে ঢুকেছে সাপ’ খবর রটতেই পড়াশোনা উঠে যায় লাটে৷ আতঙ্কে পড়ুয়া ও স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাইরে বেরিয়ে আসেন৷ সাপটিকে মারতে ডাক পড়ে স্কুল কর্মীদের৷ লাঠি দিয়ে সাপটিকে এমন মারা হবে এমন সময় ত্রাতার ভূমিকায় হাজির শের সিং৷

পেশায় তিনি ইনকাম ট্যাক্স অফিসার৷ কিন্তু ওয়াইল্ড লাইফ তাঁর ভীষণ প্রিয়৷ ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে নানা জ্ঞান থাকার সুবাদে বুঝতে পারেন সাপটি বিষধর নয়৷ তাই অহেতুক একটি প্রাণীকে আতঙ্কের বশে মেরে ফেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান৷ পরে একটু খতিয়ে দেখার পর বুঝতে পারেন সাপটি অসুস্থ৷ অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সাপটির চিকিৎসা করে তাকে সুস্থ করে তোলেন শের সিং৷ সুস্থ হয়ে সাপটির সঙ্গে দিব্য কিছু সময়ও কাটান৷

শের সিং জানান, এটিকে রেট স্নেক বলে৷ এরা বিষধর হয় না ঠিকই৷ কিন্তু এদের যদি আক্রমণ করা হয় তখন প্রাণে বাঁচতে এরা পাল্টা ফোঁস করে ওঠে৷ আর সাপ দেখলে সাধারণ প্রবৃত্তিতে মানুষ ভয় পায়৷ কারণ এরা দ্রুত ছুটতে পারে৷ ফলে ভয় পেয়ে সাপকে আঘাত করে বসে৷ ঠিক যেমন স্কুলের কর্মীরা এই সাপটিকে দেখে ভয় পেয়ে কীটনাশক ঢেলে দেয়৷

সেই কীটনাশক পেটে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সাপটি৷ তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে স্ট্র দিয়ে সাপটিকে জল খাওয়ান৷ জল পেটে যেতেই সাপটি বমি করা শুরু করে৷ তাতেই পেট থেকে কীটনাশক বেরিয়ে আসে৷ কীটনাশক বেরিয়ে আসায় তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে সাপটি৷ পরে এই সরীসৃপ প্রাণীকে এক বালতি ঠাণ্ডা জলের মধ্যে ছেড়ে দেন শের সিং৷ তাঁর কথায়, সব সাপ বিষধর হয় না৷ তবে এটাও ঠিক মানুষ বিষধর সাপ চিনতে না পেরে অন্ধের মতো সবাইকে মারতে তেড়ে আসে৷ অতীতেও তিনি এমন বহু সাপকে মৃত্যুর হাত থেকে বাচিঁয়েছেন৷