সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে তৈরি সিনেমার ট্রেলার লঞ্চ হয়েছে। তাঁর জমানায় হওয়া সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও সিনেমা হয়ে গিয়েছে। এবার তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি র‍্যাপ ভিডিও। তাও ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিনারে’র অভিজ্ঞতা নিয়ে। ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই র‍্যাপ ও ভিডিও, যা তৈরি করেছেন ‘পঞ্জাব দা পুত্তর’ যুবরাজ সিং।

যুবককে এক ঝলক দেখলে ইয়ো ইয়ো হানি সিং মনে হবে। কাজকর্মে র‍্যাপ স্টারের সঙ্গে যেমন মিল তেমনই মিল রয়েছে রাজ্যেরও। সদ্য একটি র‍্যাপ গানের ভিডিও বানিয়েছেন তিনি। গানের বিষয় জুড়ে শুধুই নরেন্দ্র মোদী। আর সেই গান গেয়েই ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে ‘পঞ্জাব দা পুত্তর’। কি রয়েছে সেই গানে? প্রধানমন্ত্রীর গুণগান নাকি তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ? গানের প্রথম লাইনে নরেন্দ্র মোদীর সুখ্যাতিই করেছেন যুবরাজ, কিন্তু পরে বিষয়টি সম্পূর্ণই অন্যরকম। কোনও গুণগান নয়। র‍্যাপের প্রতি কলিতে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যর্থতাকে। ভিডিওর নাম ‘Dinner with P.M’

 

যুবক বলেন, “একজন মানুষ এবং শিল্পী হিসাবে আমি যা বুঝেছি সেটা হল, আমাদের দেশের কৃষক এবং গরীব মানুষদের কোনও উন্নতি হয়নি বিগত পাঁচ বছরে। এর প্রতিবাদেই আমাদের দেশের কৃষক এবং গরীব মানুষদের নিয়েই আমার এই গান। আমি গান এবং ভিডিওর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে দেশের আসল পরিস্থিতিটা কি সেটা চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চেয়েছি।”

আরও পড়ুন: দার্জিলিং কেন্দ্রে বিজেপি’র প্রার্থী রাজু সিং বিস্ত

একইসঙ্গে তিনি বলেন , “কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল দেশে গরীবত্ব বলে কোনও শব্দ আর থাকবে না। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল প্রচুর চাকরির। আজ পাঁচ বছর পরে কোথায় গেল সরকারের সেই সমস্ত প্রতিশ্রুতি? পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।” কেন্দ্রের ভুয়ো প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধেই তাঁর কলম কথা বলেছে এবং সুর বেঁধেছে প্রতিবাদের।

যুবরাজের কথায়, “রাস্তায় বেরোলে যখন গরীব মানুষদের দু-মুঠো খাবারের জন্য কষ্ট পেতে দেখি তখন আমার মন যে কোথাগুলো বলে সেগুলোই ব্যবহার করেছি গানের লাইনে। তিনি জানিয়েছেন , ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর গানটা লিখেছিলাম। তারপরে গানের লাইনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কারণ দেশের বেশ কিছু জায়গায় ঘুরে আমাদের দেশের আসল পরিস্থিতি উপলব্ধি করেছি। ফলে গানের লাইন ক্রমে পরিবর্তন হয়েছে।”

তিনি এও জানিয়েছেন , “জানি না কে সরকার গড়বে এবারের লোকসভা নির্বাচনের পর। জেই আসুক না কেন আমি তাঁকে একটাই কথা বলতে চাই, বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান এবং গৃহহীন মানুষদের জন্য মাথায় সামান্য হলেও ছাদের ব্যবস্থা করার শুধু প্রতিশ্রুতি না দিয়ে আসল কাজটা করে দেখান।

দেশের কৃষকরা আমাদের সম্পদ, তাদের আত্মহত্যা করতে যেন না হয় সেই ব্যবস্থা করার কথা আমি অবশ্যই জানাবো।” ভবিষ্যতে র‍্যাপ গান গেয়েই প্রতিষ্ঠিত হতে যায় যুবরাজ। স্বপ্ন, উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশের গরীব মানুষদের সাহায্য।