তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: নতুন বছরকে ‘স্বাগত’ জানাতে যখন বিশ্বজুড়ে মানুষ নানান উৎসব অনুষ্ঠানে মেতেছেন, ঠিক তখনই গত তিন বছর ধরে একেবারে অন্যভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে আসছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ‘বেকার যুবক’, এলাকায় ‘পানকৌড়ি’ নামে পরিচিত সদানন্দ দত্ত।

২০১৭, ২০১৮-র পর এবার ২০১৯-এও এই কনকনে ঠাণ্ডায় শহরের লালবাঁধের জলে ২০১৯টি ডুব দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানালেন তিনি৷ অনেকের কাছে এই ঘটনা ‘অভিনব’ বলে মনে হলেও গত তিন বছর ধরে এই ছবিটাই দেখতে অভ্যস্ত বিষ্ণুপুর শহরের মানুষ।

ঘড়ির কাঁটায় ঠিক বারোটা বাজার সঙ্গে লালবাঁধের পাড়ে উপস্থিত বিষ্ণুপুর পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হাজারো জনতা আর সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে লালবাঁধের জলে নামলেন সদানন্দ দত্ত। উপস্থিত জনতার উল্লাস ধ্বনির সঙ্গে সদানন্দ শুরু করলেন তাঁর ডুব।

এক, দুই, তিন, চার…এভাবে পর্যায়ক্রমে ২০১৯টি ডুব দিয়ে পাড়ে উঠে এলেন তিনি। এই ছবি ক্যামেরা বন্দী করার সুযোগ হাতছাড়া করতে উপস্থিত চিত্র সাংবাদিকদের পাশাপাশি অতিউৎসাহী জনতাও।

মাত্র ৪৮মিনিট সময়ে টানা ২০১৯টি লালবাঁধের জলে ডুব দিয়ে ওঠার পর ‘পানকৌড়ি’ সদানন্দ দত্ত মানুষের অভ্যর্থনার বন্যায় ভেসে যান। উপস্থিত পুরপ্রধান পুস্পস্তবক দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। সদানন্দের এই মুহূর্তে লক্ষ্য এভাবে ডুব দিয়েই ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে’ নাম তোলা। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চান তিনি৷ তাঁর কথায়, বিষ্ণুপুরের প্রতিটি মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এইভাবে তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি তাঁর একান্ত চাওয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও যেন এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিন সারাক্ষণ লালবাঁধের পাড়ে উপস্থিত পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, সদানন্দ দত্তের পাশে আমরা আছি। এই যুবককে ‘বিরল’ প্রতিভার অধিকারী দাবি করে তিনি বলেন, গিনেস বুকে নাম তোলার জন্য যে সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় তা আমাদের এই মুহূর্তে জানা নেই। প্রয়োজনীয় খোঁজ খবর নেব। এবং তাঁর স্বপ্ন পূরণে তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলেও তিনি জানান।