শ্রীনগর: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু কাশ্মীরে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ বছরের ওই ব্যাক্তির।

ওই ব্যাক্তির মেডিক্যাল হিস্টোরি থেকে জানা গিয়েছে, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এবং ওবিসিটিতে দীর্ঘদিন ভুগেছিলেন তিনি।

এদিন দলগেটের হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, আমাদের এত প্রচেষ্টার পরেও, কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত রোগীর হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে চেস্ট ডিসিস হাসপাতালে। ওই ব্যাক্তি ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এবং ওবিসিটিতে দীর্ঘদিন ভুগেছিলেন, সেই তথ্য দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৃত ব্যাক্তি শ্রীনগরের হাইদারপোরার বাসিন্দা হলেও তিনি আসলে সোপোরের বাসিন্দা। তিনি সম্প্রতি দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশ হয়ে জম্মু থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। সেখানে তিনি তবলিঘি জামাতের ধর্মসভাতে গিয়েছিলেন যেখানে ইন্দোনেশিয়া এবং মালইয়েশিয়া থেকে মানুষ এসেছিলেন।

এখনও পর্যন্ত, কাশ্মীরে আটজনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোভিড ১৯ ধরা পরেছে। গোটা জম্মু-কাশ্মীরে আক্রান্তের সংখ্যা ১১। মার্চ মাসের শুরুর দিকে জম্মুতে তিনজন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।

শ্রীনগরের মেয়র জুনেদ আজিম মত্তু ট্যুইট করে জানিয়েছেন, “দুঃখের সঙ্গে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর কথা জানাচ্ছি। ওই ব্যাক্তির পরিবারের জন্য আমার হৃদয় কাঁদছে। আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই দুঃখ ভাগ করে নিচ্ছি”।

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত মোট ৫,১২৪ জন পর্যটকের উপর নজরদারি করা হচ্ছে কাশ্মীরে। তার মধ্যে ৩,০৬১ জনকে হোম কোয়ারান্টিনে (সরকার পরিচালিত সুবিধা সহ) রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের কোয়ারান্টিনে রয়েছেন ৮০ জন এবং বাড়িতে নজরবন্দি ১,৪৭৭ জন।

এখনও পর্যন্ত ভারতে ৬০০ জনেরও বেশি লোক আক্রান্ত করোনা ভাইরাসে। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। সব মিলিয়ে করোনা ত্রাস এখন গোটা দেশ জুড়ে। এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বুধবার থেকে গোটা ভারতে লকডাউন করার ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই অবস্থা।

সরকাররের তরফের মুখপাত্র করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন, যে আক্রান্তের কথা রিপোর্ট করা হয়েছে, সংখ্যা তাঁর চেয়ে অনেক বেশি কারণ বিরাট সংখ্যক মানুষ তাদে ট্রাভেল হিস্টোরি প্রকাশ্যে আনেননি।