ম্যাঞ্চেস্টার: টুর্নামেন্টের আগা গোড়া যে রকম দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়ে এসেছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, তাতে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের অন্যতম দাবিদার ছিল তারা৷ প্রথম লেগের কোয়ার্টার ফাইনালে হারলেও সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার বিষয়ে ফেভারিট ছিল পেপ গুয়ার্দিওলার প্রশিক্ষণাধীন ম্যান সিটি৷ তবে ভাগ্য বিমুখ হওয়ায় এ যাত্রায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সিটিকে৷ ঘরের মাঠে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় পর্বে ৪-৩ গোলের উত্তেজক জয় তুলে নেওয়া সত্ত্বেও এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের হার্ডল থেকেই বিদায় নিয়ে হয় ম্যান সিটিকে৷

প্রথম লেগে টটেনহ্যামের কাছে তাদের ডেরায় ০-১ গোলে হারতে হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটিকে৷ ফিরতি ম্যাচে ৪-৩ গোলে জেতার ফলে দুই লেগ মিলিয়ে কোয়ার্টারের স্কোর-লাইন দাঁড়ায় ৪-৪৷ তবে তিনটি অ্যাওয়ে গোল করার সুবাদে টটেনহ্যাম জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে৷

আরও পড়ুন: আয়াক্সের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বিদায় জুভেন্তাসের

এতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের দুরন্ত ফুটবলের সাক্ষী থাকে ফুটবলপ্রেমীরা৷ রহিম স্টার্লিং ম্যান সিটির হয়ে জোড়া গোল করেন৷ একটি করে গোল উপহার দেন বার্নার্দো সিলভা ও সার্জিও আগুয়েরো৷ টটেনহ্যামের হয়ে দু’টি গোল করে সন হিউং-মিন৷ অপর গোলটি লরেন্তের৷

শুধু ম্যাচের ৯০ মিনিটেই নয়, চূড়ান্ত নাটকীয়তা অপেক্ষা করেছিল ইনজুরি টাইমেও৷ একেবারে শেষ মুহূর্তে স্টার্লিং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দলের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছিলন৷ তবে রেফারি ভিডিও রেফারেলের সাহায্য নিয়ে গোল বাতিল করেন৷ আগুয়েরো অফসাইডে থাকায় সিটির শেষ চারের স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়৷

ম্যাচের প্রথম ১১ মিনিটেই চারটি গোল হয়৷ ৪ মিনিটের মাথায় ডি’ব্রুইনের পাস থেকে প্রথম গোল করেন স্টার্লিং৷ ৭ মিনিটে এরিকসেনের পাস থেকে ম্যাচে সমতা ফেরান সন৷ ১০ মিনিটের মাথায় সন হিউংই নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিড এনে দেন টটেনহ্যামকে৷ ১১ মিনিটে আগুয়েরোর পাস থেকে ম্যান সিটিকে সমতায় ফেরান সিলভা৷

আরও পড়ুন: স্বপ্ন শেষ ম্যান ইউয়ের, মেসি ম্যানিয়ায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে বার্সা

প্রথমার্ধে আরও একটি গোল হয়৷ ২১ মিনিটে ডি’ব্রুইনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন স্টার্লিং৷ হাফ-টাইমের স্কোরলাইন ছিল সিটির অনুকূলে ৩-২৷

দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলই একটি করে গোল করে৷ ৫৯ মিনিটে ডি’ব্রুইনের পাস থেকে গোল করেন আগুয়েরো৷ ৭৩ মিনিটো সিটির জালে বল জড়িয়ে স্কোর-লাইন ৪-৩ করেন লরেন্তে৷ ইনজুরি টাইমে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রেফারি স্টার্লিংয়ের গোল বাতিল করলে সেমিফাইনালের টিকিট পকেটে পোরে টটেনহ্যাম৷ শেষ চারে তারা আয়াক্সের মুখেমুখি হবে, যারা টুর্নামেন্ট থেকে ইতিমধ্যেই ছিটকে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্তাসকে৷