প্রতীকি ছবি

মুম্বই: ট্রেনের কামরায় দাঁড়ানো নিয়ে বাকবিতণ্ডা, আর তাঁর জেরে যে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাও করতে পারেননি মহারাষ্ট্রের ঘানসলির বছর ৩৪ এর যুবক মহেশ পাণ্ডুরাং ধুমরে।

মুম্বই রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনের দরজার সামনে দাঁড়ানো নিয়ে শুরু হয় বচসা। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ মুম্বাইয়ের দাদরা ষ্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন মহেশ। সেই সময় ট্রেনে যথেষ্ট ভিড় থাকায় নিত্যযাত্রীদের ট্রেনে উঠতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। সেই থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত হয় ওই দুই যাত্রীর মধ্যে। এক কথায় দুই কথায় তাঁদের মধ্যে গণ্ডগোল বাড়তে থাকলে তাঁদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন ওই ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা। কিন্তু কারও কথায় কর্ণপাত না করেই নিজেদের মধ্যে বিবাদ চালিয়ে যান তাঁরা। ফলে তাঁদের ঝগড়া থামাতে ব্যর্থ হয় যাত্রীরা।

ওই ট্রেনের প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানিয়েছেন, কিছু সময় পড়ে তাঁদের মৌখিক ঝগড়া গড়ায় হাতাহাতি পর্যন্ত। তার পরেই ঘটে যায় ট্রেনের মধ্যে এক ভয়াবহ কাণ্ড। ঝগড়ার আক্রোশে সহ যাত্রীর ডানহাতের তর্জনী কামরে একাকার করে দিল অভিযুক্ত অপর সহযাত্রী।

মুম্বই আরপিএফ তরফে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলায় মুম্বাইয়ের দাদর ষ্টেশনে। আক্রান্ত মহেশ পাণ্ডুরাং ধুমরে নামের ওই যুবক মুম্বাইয়ের দাদার ষ্টেশন থেকে তাঁর কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে ট্রেনে উঠেই কামরার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। যারফলে ট্রেনে উঠা-নামা করতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল অন্য যাত্রীদের।

জানা গিয়েছে, তার কিছুক্ষন পরেই কুরলা ষ্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে অভিযুক্ত আসিফ ইউসুফ শেখ নামের বছর ২৫-এর ওই ব্যক্তি। ট্রেনের প্রথম কামরাতে দরজার সামনে দাঁড়ানো নিয়ে বেশ কিছুক্ষন পরে মহেশের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ায় আসিফ ইউসুফ শেখ। কথা কাটাকাটির মাঝে মহেশের জামার কলার ধরে টানতে থাকে ইউসুফ যারফলে জামার বোতাম ছিঁড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা। জামার বোতাম খুলে যাওয়ায় তাতে বেজায় চটে যান মহেশ। তখনই সে ইউসুফের গলা ধাক্কা দিতে শুরু করে। ইউসুফ তখনই মহেশের ডান হাতের তর্জনী কামরে দেয় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এমন ঘটনার আকস্মিকতায় ট্রেনের ওই কামরার অন্যান্য যাত্রীরাও ভীত হয়ে পড়ে।

শুধু তাই নয় ট্রেনের ভিতরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুধু আঙুলে কামর দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ইউসুফ। এর পরেই অভিযুক্ত ইউসুফ ফের মহেশকে গলা ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারপরেই ট্রেনের এক যাত্রী রেলের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে ঘটনার খবর পাঠায় জিআরপির কাছে। থানে ষ্টেশনে ট্রেন থামলে সেখান থেকে ইউসুফকে গ্রেফতার করে জিআরপি।

আক্রান্ত মহেশকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানে তাঁর ডান হাতের তর্জনী অপারেশন করেন ডাক্তাররা। মহেশের বড় ভাই যোগেশ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, ‘ডাক্তাররা তাঁর ভাইয়ের আঙুলের ক্ষত স্থানে অপারেশন করলেও সেটি আবার আগের মত হয়ে যাবে কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছুই জানায়নি তাঁরা। হাসপাতাল সূত্রের খবর, মহেশের চিকিৎসকরা সবসময় চেষ্টা করছে যাতে সে আবার আগের মতই কাজকর্ম করতে পারেন এবং ওই ক্ষত স্থানে যাতে পরবর্তীকালে নখ গজায় সেই বিষয়েও তাঁরা চিকিৎসার চেষ্টা করছেন।

এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত ইউসুফের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৫ এবং ৫০৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বর্তমানে সে জেলেই রয়েছে।