নিউ ইয়র্ক: বিশ্বজুড়ে চলছে করোনা মহামারী। পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস। কেউ কেউ হয়ত ভাবছেন পৃথিবীর বাইরে চলে গেলে মিলতে পারে মুক্তি। কিন্তু বিষয়টা একেবারেই সেরকম নয়। এমনকি মঙ্গল গ্রহ থেকেও পৃথিবীতে চলে আসতে পারে ভাইরাস। এমনই আশঙ্কা করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

কথাগুলো শুনতে কল্পবিজ্ঞানের মত লাগলেও, আদতে এটাই বাস্তব। তাই সেরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হবার জন্য সব রকমের উদ্যোগ নিচ্ছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।

প্রথমবার মঙ্গলে পা রাখবে মানুষ, বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে সেই প্রস্তুতি। আর সেই লাল গ্রহ থেকে মানুষ ভাইরাস নিয়ে ফিরে আসতে পারে, এমন আশঙ্কাই করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রসঙ্গে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্কট হবার্ড এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সেই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন প্লানেটারি প্রটেকশন।

মঙ্গল গ্রহ থেকে যেসব পাথর নিয়ে আসা হবে, সেগুলিতে কি বলার মত ভাইরাস আছে ধরে নিয়ে সতর্ক হতে হবে। রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করে হিট স্টেরিলাইজেশন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ না প্রমাণিত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাতে হাত দেওয়া যাবে না। এছাড়া যেসব মহাকাশচারীরা লালগ্রহে পৃথিবীতে ফিরবেন তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ঠিক যেমন অ্যাপোলো মিশনে প্রথমবার চাঁদে মানুষ যাওয়ার পর সেই মহাকাশচারীদের কোয়ারেন্টাইন থাকতে হয়েছিল।

২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। যদিও সেই দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মানুষ, তবে বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা মহাকাশচারীরা পৃথিবীতে-এলিয়েন ভাইরাস নিয়ে ফিরতে পারেন।

এর আগে মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রে রকেট গুলিকে হিট স্টেরিলাইজেশন করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আর শুধু উত্তাপই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন ওই অধ্যাপক।

বছর কয়েক আগে মঙ্গলের পৃষ্ঠ বরফের চাদরের ছবি আসে নাসার হাতে আসা লালগ্রহের নতুন ছবি দেখেই সত্যিই হতবাক হয় বিশ্বের মানুষ। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, মঙ্গলের নর্দার্ন হেমিস্ফেয়ারে তখন বসন্ত। সেইসময়কার ছবিই ধরা পড়েছিল ক্যামেরায়।

পুরো শীত জুড়ে মঙ্গলের গায়ে থাকে হিমবাহ। বসন্তে সেগুলো একটি গলতে শুরু করে। তবে পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের তফাৎ একটাই , এই বরফ আসলে কার্ব-ডাই-অক্সাইডের তৈরি। অর্থাৎ যাকে বলে ড্রাই আইস বা শুকনো বরফ।

বসন্তে যখন মঙ্গলের গায়ে সূর্যের তেজ বাড়তে শুরু করে, তখন বরফের পাহাড়গুলো ভাঙতে শুরু করে ও একটা কালচে বালি বেরিয়ে পড়ে এর তলা থেকে। তখনই এত সুন্দর একটা ছবি দেখা যায় প্রতিবেশী এই গ্রহের গায়ে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV