মুম্বই: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে শিরোনামে উঠে এল তিন তালাক বিতর্ক। ঘটনাচক্রে ঘটনাটি আবার গেরুয়া রাজ্য মহারাষ্ট্রে।

সোশ্যাল মিডিয়া হোয়াটসঅ্যাপ-এর মাধ্যমে মেসেজ করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন এক ব্যক্তি। তালাকপ্রাপ্ত ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মহারাষ্ট্রের রাজধানী শহর মুম্বইয়ের শহরতলি কল্যাণ এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম নাদিম শেখ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ বছরের ওই যুবক ২০১৪ সালের মে মাসের ১৮ তারিখে বিয়ে করেছিল। ওই দম্পতির একটি চার বছরের পুত্র সন্তানও রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে সে তার ২৫ বছরের স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিন তালাক দিয়ে দেয়।

ভৈওয়াড়া থানার পুলিশ ইনিস্পেক্টর কল্যান পারপে জানিয়েছেন যে এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে নাদিম শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোবাইলে মেসেজ করে তিন তালাক দেওয়া এবং বধূ নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত নাদিম এবং তার বাবা-মা নিয়মিত ওই মহিলাকে পণের জন্য নির্যাতন করতো। পাঁচ লক্ষ টাকা দাবিও করা হয়েছিল। সেটা দিতে না পারায় মহিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

সেই ঘটনার পর থেকেই ভৈওয়াড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতেই ছেলেকে নিয়ে থাকছেন অভিযোগকারী মহিলা। সেই সময়েই হোয়াটসঅ্যাপ মারফৎ স্বামীর তিন তালাক বার্তা পেয়েছিলেন তিনি। এরপরে বহুবার মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নাদিম প্রতিবারেই তাঁকে অগ্রাহ্য করে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তালাকপ্রাপ্ত ওই মহিলা।

ওই মহিলার অভিযযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নাদিম এবং তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির নানাবিধ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক প্রথা বাতিল ঘোষণা করে। শুধু তাই নয়, এই প্রথা অবৈধ এবং অসাংবিধানিক বলেও রায় দিয়েছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।