যোধপুর: বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে নির্মম ভাবে কুপিয়ে ও পরে পুড়িয়ে খুন করার অভিযোগ ঘিরে আলোড়ন ছড়িয়েছে৷ মৃতের নাম মহম্মদ আফরাজুল৷ সে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা৷ তাকে খুন করার দৃশ্যটি ভাইরাল হয়েছে৷ সেখানে হামলাকারীর হুমকি লাভ জিহাদে যে জড়াবে তার পরিণতি হবে এমন৷

এভাবে এক শ্রমিককে খুনের তীব্র নিন্দা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অন্যদিকে বিতর্কে জড়িয়েছে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া সরকার৷ ঘটনা তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : লাভ জিহাদের বদলায় মুসলিম মহিলাকে হিন্দু পরিবারে বিয়ে দেবে এই সংগঠন

রাজস্থানের রাজসমন্দের ঘটনা৷ সেই রাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিকের কাজ করত মালদার বাসিন্দা মহ. আশরাফাজুল৷ ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পিছন থেকে ওই ব্যক্তিকে কুড়ুল দিয়ে কোপাতে থাকে এক যুবক৷ তিন থেকে চার বার আসরাফাজুলের শরীরের নানা জায়গায় কোপানো হয়৷ যন্ত্রনায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আসরাফাজুল৷ এরপরই তার রক্তাক্ত শরীরে কেরোসিন ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত৷ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে ‘লাভ জিহাদের পরিণতি হবে এটাই৷’

এর পরেই প্রশ্ন উঠেছে, ওই সংখ্যালঘু বাঙালি শ্রমিক কী অন্য কোনও ধর্মের কারও প্রেমে জড়িয়েছিলেন নাকি ব্যক্তিগত রেষ মেটাতেই এই খুন করা হল৷

তদন্তে নেমে একজনকে গ্রেফতার করেছে রাজস্থানের রাজসমন্দ জেলার পুলিশ৷ জানা গিয়েছে ধৃতের নাম শম্ভু লাল রেগর৷ গোটা ঘটনাটি সে আবার নিজের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে৷ ক্যামেরার সামনে সে জানায়, ‘লাভ জিহাদে যে নিজেকে জড়াবে তার পরিণতি হবে এই৷’

আও পড়ুন : লাভ জিহাদের’ ফাঁদ কাটতে মেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সে নিজেই পোষ্ট করে৷ মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সেই ভিডিও৷ এক যুবকের নৃশংসতায় হতবাক বনে যান সবাই৷ পুলিশি জেরায় সে জানিয়েছে, আশরাফাজুলকে সে আগে থেকে চিনত৷ ঘটনার দিন তাকে ওই জায়গায় ডেকে পাঠায় সে৷ রাজস্থানের রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, যেভাবে খুন করা হয়েছে তা খুবই মর্মান্তিক ও নৃশংস৷ তার উপর সে গোটা ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করে৷ প্রকৃত ঘটনা জানতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে৷

- Advertisement -