স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: চোর সন্দেহে এক যুবককে ধরে মারধোরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে বাঁকুড়া জেলায়। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে বাঁকুড়া জেলার লোকপুর এলাকায় তিনজনকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হতেই ওই তিনজনকে তাড়া করলে তাঁদের মধ্যে দুজন পালিয়ে যায়। কিন্তু একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। আর তাঁর পরই শুরু যুবককে ধরে গণপ্রহার। এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হচ্ছে এই খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, পরে পুলিশ এসে গুরুত্বর আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে ওই ব্যক্তির।

এদিকে গণপ্রহার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দা অনুপ সহিস বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই এলাকায় ছোটো খাটো চুরির ঘটনা ঘটছে’। এলাকার মানুষ ঘিরে ধরতেই সন্দেহভাজন ওই দু’জন ছুটে পালিয়ে যায়। একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে বাঁকুড়ার লোকপুর পাড়াতে ছেলেধরার আতঙ্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা বুবুন সহিস।

এদিন তিনি জানিয়েছে, তাঁর ছেলে মেয়েরা অনেকটা পথ একা একাই স্কুলে ও প্রাইভেট টিউশন যায়। ক’দি আগে তার ছেলেকে অপরিচিত কেউ চকোলেট দেওয়ার নাম করে ডেকেছিল বলে দাবী করেন তিনি। বলেন, ওই অবস্থায় ছেলে মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন তিনি। ছেলে ধরা হোক বা চোর এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজনদের ঘোরাফেরা নিয়ে তারা যে যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তা এদিন ঘুরে ফিরে সকলের কথাতেই উঠে এসেছে।

এদিকে নিজের নাম জানাতে অনিছুক ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের সামনে তিনি নিজেকে কেঠারডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন। আরও জানাগিয়েছে তিনি এদিন ওই এলাকায় একজনের খোঁজে এসেছিলেন। পাড়ার লোকেরা তাকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে’ মারধোর করেছেন বলে দাবী করেন তিনি।

এদিকে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক যুবককে ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকার বাসিন্দারা গণপ্রহার দিয়েছেন। এই বিষয়ে সদর থানার পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এখনও পর্যন্ত গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশের তরফে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা। তবে এদিন পুলিশের তরফে ছেলেধরার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে দাবি করা হয়েছে।