ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ : গত ৩০ অগস্ট বিধান সভায় পাশ হয়েছে গণপিটুনি বিরোধী আইন। নয়া এই আইনের বয়স এক মাস হতে না হতেই বারংবার খবরের শিরোনামে উঠে আসছে গণপিটুনির সংবাদ। নয়া গণপিটুনি আইনে কোনও ব্যক্তিকে শুধুমাত্র সন্দেহের বশে আটক করে যদি মারধোর করা হয় তাহলে অপরাধীর জন্য সর্বচ্চো সাজা হিসাবে রাজ্য সরকার জেল এবং জরিমানা দুটোই ঘোষণা করেছে। এত কিছুর পরেও সাধারন মানুষের যে এখনও টনক নড়েনি তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছে রাজ্য প্রশাসন।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ফের জেলা থেকে খবরের শিরোনামে উঠে এল গণপিটুনির ঘটনা। যদিও পুলিশের তৎপরতায় গণপিটুনিতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন আহত ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি মালদহ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

গণপিটুনির ঘটনাটি ঘটেছে, মালদহ থানার চরকাদিপুর নামক এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধ সম্পর্কের জেরে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তির নাম রাজু নাদাব (৩২)। পেশায় সবজি বিক্রেতা রাজু নাদাবের বাড়ি মালদহ জেলার ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত অমৃতি অঞ্চলের বানিয়া গ্রামে। সূত্রের খবর, পেশায় সবজি বিক্রেতা রাজুর সঙ্গে সবজি বিক্রির সূত্রে ওই একই গ্রামে বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে।

জানা গিয়েছে, তাঁদের এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার রাতে নিজের বাড়িতে রাজুকে ডেকে পাঠান ওই মহিলা। বাড়িতে আসার পর রাজুকে ঘরে তালাবন্দি করে রাখেন তিনি । তারপরেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মালদহ থানার পুলিশ । গ্রামবাসীদের হাত থেকে আক্রান্ত যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তারপরে তাকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় মালদহ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চলছে তাঁর চিকিৎসা।

মালদহ থানার পুলিশ জানিয়েছে, গত মাসেই গণপিটুনি বিল পাশ করিয়েছে রাজ্য সরকার। যাতে আর কোথাও গণপিটুনির ঘটনা না ঘটে। এত ঢাকঢোল পিটিয়ে আইন তৈরি করায় সার সরকারের। তবুও গণপিটুনি রোখা গেল না। ফের আইন নিজের হাতে তুলেনিল সাধারন মানুষ। আর এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্ন তুলল আইনের শাসন নিয়ে। জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে দেখছে পুলিশ ।