স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকার সোনা আটক করল শুল্ক দফতর৷ বুধবার হাওড়া স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুকেজি সোনার বাট আটক করা হয়৷ যার আনুমানিক মূল্য ৬৪ লক্ষ টাকারও বেশি৷ এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

বুধবার জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে করে রাউরকেল্লায় পাচার করা হচ্ছিল সোনার বাট৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তল্লাশি চালায় শুল্ক দফতর৷ধৃতের বাড়ি ছত্তিশগড়ে রায়গড় এলাকায়৷ হাওড়া রেল স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্স থেকে একে গ্রেফতার করা হয়৷
ধারাবাহিক অভিযান ও সোনা আটক চললেও, পাচার চক্র যে এখনও সক্রিয়, তা গতকালের ঘটনায় প্রমাণিত৷

গত কয়েক মাসের মধ্যে হাওড়া স্টেশন এলাকায় একাধিক বার সোনার বিস্কুট ও সোনার বাট ধরা পড়েছে। পরপর এমন ঘটনায় এমনিতেই রেলের পদস্থ কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। রেলের অনুমান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করে প্রচুর ধরপাকড় শুরু হওয়ায় সোনা পাচারকারীরা পরিবর্ত হিসাবে রেলপথের ব্যবহার শুরু করেছে।

হাওড়া পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় স্টেশন। পাশাপাশি এটি প্রান্তিক স্টেশন হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরেই পাচারকারীরা এই স্টেশনকে নানা ভাবে ব্যবহার করে থাকে বলে রেল পুলিশের দাবি। হাওড়া স্টেশনে নতুন ও পুরনো দু’টি কমপ্লেক্স মিলিয়ে ২৩টি প্ল্যাটফর্ম। তার উপরে দৈনন্দিন মেল, এক্সপ্রেস ও ইএমইউ মিলিয়ে প্রায় ৬০০টি ট্রেনের ১০ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। ফলে কিছু জায়গায় নজরদারির কিঞ্চিত ঢিলেঢালা ভাবকে কাজে লাগিয়ে চলে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য।

রেল পুলিশ সূত্রে খবর, আশির দশকের শেষ দিকে হাওড়া স্টেশনকে ব্যবহার করা হত ভিসিপি, ভিসিআর ও ইলেক্ট্রনিক্স নানা খেলনা পাচারের পথ হিসাবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাচারের সামগ্রী বদলেছে। দিল্লি থেকে রুপো, বিহারের মুঙ্গের থেকে আনা আগ্নেয়াস্ত্র এবং সব শেষে বিশেষ প্রজাতির কচ্ছপ পাচার করাও হত এই স্টেশন ব্যবহার করেই।

এখন হাওড়া স্টেশন যে সোনা ও গাঁজা পাচারকারীদের কাছে কার্যত ‘নিরাপদ করিডর’ হয়ে গিয়েছে তা মেনে নিয়েছেন হাওড়া জিআরপি-র এক পদস্থ কর্তা।