কলকাতা: মোর্চাকে চাপে ফেলে জিএনএলএফের সঙ্গে শান্তি বৈঠকের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আজ দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক শান্তি বৈঠকের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ আগামী ২৯ অগস্ট এই শান্তি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে৷ নবান্নে সূত্রে জানানো হয়েছে, জিএনএলএফের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠির ভিত্তিতেই এই বৈঠক৷ চিঠিতে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্যের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাওয়ার আর্জি জানানো হয় জিএনএলএফের তরফে৷ সেই ডাকে সাড়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তি বৈঠকের কথা ঘোষণা করেন৷

এদিন নবান্নে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পাহাড় পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল জিএনএলএফের পক্ষ থেকে৷ আমাদের চিঠি পাঠানো হয়েছিল৷ আমরা তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছি৷ যারা শান্তির পক্ষে তাদের সঙ্গে সবসময় আলোচনায় প্রস্তুত সরকার৷ আগামী ২৯ অগস্ট বিকেলে চারটেয় নবান্নে শান্তি বৈঠক হবে৷ অন্য সব রাজনৈতিক দলকেও বলব বৈঠকে উপস্থিত থাকতে৷ মেজর পলিটিক্যাল পার্টিগুলিকে বৈঠকে আসার জন্য অনুরোধ করা হবে৷’’

তবে, পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে শুধুমাত্র জিএনএলএফের সঙ্গে রাজ্যের বৈঠক আদৌও সমস্যা সমাধান হবে কি না তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে৷ কারণ, এর আগেও তিনবার পাহাড় ইস্যুতে ডাকা সর্বলদ বৈঠক বিফলে যায়৷ পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে জিএনএলএফ আলোচনায় বসতে চাইলেও এখনও পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান নিতে পারেনি৷ মোর্চা কিম্বা জন আন্দোলন পার্টির সদস্যরা এই শান্তি বৈঠকে যাবেন কি না তাও স্পষ্ট নয়৷

নবান্নে সব রাজনৈতিক দলগুলিকে আলোচনায় বসার ডাক দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়নি বলে জানা গিয়েছে৷ সূত্রের খবর, আগামী ২৯ অগস্ট মমতার ডাকে সারা দিয়ে নবান্নে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তৈরি পাহাড়ের একাধিক জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদ৷ তবে, পাহাড়ে আন্দোলনের পেছনে সব থেকে বেশি যাদের ভূমিকা রয়েছে, সেই জনমুক্তি মোর্চাকে এই বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে মোর্চা সূত্রে জানানো হয়েছে৷ আর ডাকা হলেও আলোচনায় অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে বেশ কঠিন৷  কেননা, মদন তামাং হত্যাকাণ্ড, পাহাড়ে অশান্তি ছড়ানো ও হালের কার্শিয়াং থানায় বিস্ফোরণের মোর্চা নেতাদের ঘারে মামলার খাঁড়া ঝুলছে৷ যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতারিরও সম্ভাবনা রয়েছে৷ ফলে, নিজেদের বিপদ বাড়াতে চাইবেন না মোর্চার নেতারা৷ গুরুত্ব এই বৈঠকে মোর্চার দ্বিতীয় শ্রেণির নেতাদের পাঠানোটাও বুদ্ধিদীপ্ত কাজ হবে না৷

শুধু মোর্চা নয়, পাহাড় ইস্যুতে সর্বদল বৈঠকে বিজেপি-সিপিএমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে খবর পাওয়া গিয়েছে৷ সর্বদল প্রসঙ্গে এদিন রবীন দেব জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কোনও চিঠি আসেনি৷ আমন্ত্রণ এলে আলোচনার মাধ্যমে বামেরা নিজেদের অবস্থান জানাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ একই সঙ্গে রাজ্য বিজেপির কাছেও এমন কোনও চিঠি পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন সায়ন্তন বসু৷ কংগ্রেস সূত্রেও একই কথা জানা গিয়েছে৷ তবে, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলিকে এড়িয়ে আদৌও এই বৈঠক কতটা সফল হবে তা নিয়ে থাকছে প্রশ্ন উঠছে৷

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, শুধুমাত্র মোর্চার উপর চাপ বাড়াতেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তির আলোচনার ডাক? পৃথক রাজ্যের দাবিতে যখন মোর্চার হাতে হাত মিলিয়ে বনধ চালিয়ে যাচ্ছে জিএনএলএফ, তখন চাপে থাকা মোর্চার সঙ্গে সংঘাত বাডিয়ে পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার নয়া কৌশল? উঠছে প্রশ্ন৷ কারণ, একের পর এক মামলায় চরম অস্বস্তিতে মোর্চা৷ ফলে, মোর্চার অনুপস্থিতি জিএনএলএফের কাছে সাপ বর পাওয়ার সামিল৷

পাহাড়ে মোর্চার ডাকা বনধ প্রায় আড়ায় মাসে পড়েছে৷ সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতি আর কতদিন মেনে নিতে পারবেন তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। ধীরে ধীরে বনধ তুলে নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য পাহাড়ের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, চা শিল্প মহলের তরফেও চাপ বাড়ানো হয়েছে৷ চলতি সপ্তাহে বনধ বিরোধী পোস্টারও দেওয়া হয়েছে৷ চাপে পড়ে অনশনও প্রত্যাহার করে নিয়েছে মোর্চা৷ কিন্তু গুরুং তাঁর পুরনো অবস্থান থেকে সরতে চাননি৷ তিনি জানান, এখন বনধ তুলে নিলে আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়বে৷ পাহাড়ে আধাসেনা ও রাজ্য প্রশাসন চেপে বসবে৷ এর পরেই ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় গোর্খাল্যান্ড সমন্বয় কমিটিও৷ ফলে, সব মিলিয়ে এদিনের এই বৈঠক আদৌও সমস্যা সমাধানের কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয় কি না, সময়েই মিলবে তার সদুত্তর৷ আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল৷