কলকাতাঃ রাজ্যবাসীকেও আরও একবার লকডাউন মেনে চলার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আর কি কি করণীয় সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে আক্রান্ত ৩৭ জন। তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজন সুস্থ। ভাইরাসের আক্রমণে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত তিনজনের মধ্যে একজনের নিউমোনিয়ার সমস্যা ছিল আরেকজনের কিডনির অসুখ ছিল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেছেন, এখনো পর্যন্ত রাজ্যে যে ৩৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ৩১ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমগুলিকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে আবেদন জানিয়েছেন।

সরকারের তরফে নিশ্চিত খবর পাওয়া না পর্যন্ত করোনা সম্পর্কিত কোন খবর পরিবেশন না করতে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা মোকাবিলায় আবারও একজোটে লড়াইয়ের আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দুই সপ্তাহ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দু’সপ্তাহ প্রত্যেককে সরকারের নির্দেশ পালন করতে আবেদন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জরুরি কাজ ছাড়া কিছুতেই রাস্তায় বেরোনো যাবে না। রাজ্যবাসীকে সচেতন করে আবারও আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে আছে রাজ্য সরকার। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৩৯৪ পিপিই বন্টন করা হয়েছে। একইভাবে ইতিমধ্যেই ৪২ হাজার ২৯৬ টি n95 মাস্ক হাসপাতালগুলিতে বন্টন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে ১৮ হাজার ৩৬৩ লিটার স্যানিটাইজার বন্টন করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় যথেষ্ট তৎপরতা নিয়েছে রাজ্য সরকার. জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই 2856 জনকে করে রেখে চিকিৎসা করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে লকডাউন চললেও অনেকেই তা মানছেন না বলে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন কলকাতা ও লাগোয়া বেশকিছু এলাকায় মানা হচ্ছে না লকডাউন। এই মানসিকতা অত্যন্ত বিপদজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে বলছি লকডাউন মেনে চলুন. সবাই মিলে একসঙ্গে লড়াই না করলে মারন এই ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।