স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম : এমনটাও সম্ভব৷ পরিবর্তনের বাংলায় নতুন করে মমতা-শুভেন্দুর জন্ম৷ তাও আবার নন্দীগ্রামে! অবাক হলেও এটাই ঘটনা৷ মুখ্যমন্ত্রীর হাতে গড়া নন্দীগ্রামে সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালেই জন্ম হল ফুটফুটে মমতা-শুভেন্দু’র৷

ঢাকঢোল পিয়ে আগেই উদ্বোধন হয়েছিল নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতাল৷ কিন্তু, অপারেশনের কোনও ব্যবস্থাই ছিল৷ দীর্ঘ প্রায় ছ’মাস পর আজ, বুধবার অপারেশন থিয়েটারের সূচনা করেন নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হসপিটালের চেয়ারম্যান সেখ আবুতাহের। উদ্বোধনের দিনই নয়া কাণ্ড ঘটানো হয় নন্দীগ্রামে সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালে৷ পরিষেবা চালুর দিনেই দুই মহিলার সিজার করানো হয়।

নয়া এই পরিষেবা চালু দিনেই দুটি মহিলার অপারেশন করানো হয়৷ সফল অপারেশন হয় ময়নার নারকেলদার তুলসী দাসের ও নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়ার রেশমা খাতুনের। রেশমা একটি কন্যা সন্তানের জন্মদেন। রেশমার কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার তার নাম দেওয়া হয় মমতাজ বেগম। তুলসী দেবী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তার নাম দেওয়া হয় শুভেন্দু দাস। মমতা ও শুভেন্দু নাম অনুসারে এই ধরনের নাম রাখায় বেজায় খুশি দুটি পরিবার।

নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালে নয়া পরিষেবায় চালুর দিনে মুখ্যমন্ত্রী ও পরিহরণ মন্ত্রীর নামে নবজাতকের নাম রাখায় বেশ খুশি তুলসী ও রেশমা বিবিরা৷ হাসপাতালে সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে এমন এই মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হবে তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা৷ হাসাপতালের নয়া পরিষেবার উদ্বোধনের মুহূর্তকে সাক্ষী রেখেই দু’ই নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে৷ অপারেশন করেছিলেন মিল্টন মণ্ডল ও তনুশ্রী রায়। দুজনেই জানান, সফলতার সঙ্গে দুটি অপারেশন হয়েছে। মা ও ছেলে মেয়ে সকলেই সুস্থ রয়েছেন।

এই নন্দীগ্রামের মাটিতে জমি আন্দোলনকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। আর পরিবহণ মন্ত্রী পদে আসীন হয় শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রধান সৈনিক ছিলেন। কিন্তু তিনি বর্তমানে নন্দীগ্রাম থেকে জয়লাভ করে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন। নন্দীগ্রাম থেকে রাজ্যের পালাবদল হওয়ায় নন্দীগ্রামকে উন্নয়নে ভরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার মানুষের আবেদনে নন্দীগ্রামে একটি সুপার স্পেশ্যালিটি হসপিটাল গড়ে তুলেন বর্তমান সরকার। ঢাকঢোল পিটিয়ে হাসপাতালের উদ্বোধন হয়ে গেলেও প্রায় ছ’মাস অপারেশনের কোনও ব্যবস্থাই চালু ছিল না৷ পরিষেবা চালু না হওয়ায় সমস্যায় পড়ছিলেন বহু সাধারণ মানুষ৷