স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার করেছিলেন বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোতে দেখা গেল তৃণমূল ২২-এ আটকে গেছে৷ ফলাফলের পর অনেকটা সময় নিজেকে গৃহবন্দি রেখেছিলেন মমতা৷

এরপর শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এসে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ হারের কারণ হিসেবে ব্লক এবং জেলা নেতৃত্বের এক বড় অংশকে দায়ী করে অনেকগুলি রদবদল করেন মমতা৷

সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন দলে থেকে যারা দল বিরোধী কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ বিশেষজ্ঞদের মতে লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর বড় চিন্তা এখন ২০২১-এ বিধানসভা৷ গেরুয়া আক্রমন ঠেকাতে তাই বিশ্বস্ত সৈনিকদের তিনি নিয়ে আসছেন তৃণমূলের গড় সামলাতে৷ একদা জঙ্গলমহল ছিল তৃণমূলের বিশ্বস্ত ঘাঁটি৷ কিন্তু মাত্র আটবছরেই জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষ চার জেলায় ঘাষফুল সরিয়ে পদ্মকে জায়গা দিয়েছে৷ এতে অবশ্যই ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

পূর্ব মেদিনীপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী জঙ্গলমহলকে ঘাষফুল ফোটানোর অন্তম কারিগর৷ মুকুল রায় তৃণমূলে থাকার সময় শুভেন্দুর সঙ্গে মমতার কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল৷ একাধিকবার শুভেন্দুর দল বদলের জল্পনাও ছড়িয়েছিল৷

কিন্তু তা সত্ত্বেও অধিকার পরিবার তৃণমূলেই থেকে গিয়েছেন৷ তবে জঙ্গলমহলের দায়িত্ব হারিয়ে পুরুলিয়ার দায়িত্বে পাঠানো হয়েছিল শুভেন্দুকে৷ জঙ্গলমহলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁকে সরিয়ে আবার জঙ্গলমহলের দায়িত্বে শুভেন্দুকে নিয়ে আসলেন মমতা৷ সঙ্গেই সরকারি সংগঠনের দায়িত্বেও আনা হল অধিকারীবাবুকে৷ পাশাপাশি, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার দায়িত্ব থেকে সরানো হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিষেক সবার সাথে কো-অর্ডিনেশন করবে৷

এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ট ফিরহাদ হাকিমকে দেওয়া হল বর্ধমান, হাওড়া, হুগলির পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব৷ তৃণমূলের হয়ে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন লড়ে হেরে যাওয়া সৈনিকদেরও পুরষ্কৃত করলেন মমতা৷ হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি করা হল রত্না দে নাগকে৷ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সভাপতি হলেন কানহাইয়ালাল আগরওয়াল, চেয়ারম্যান হলেন অমল আচার্য৷ ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি হলেন বীরবাহা সোরেন৷

উত্তর দিনাজপুর জেলার সভাপতি হলেন অর্পিতা ঘোষ৷বর্ধমান পশ্চিমের সভাপতি করা হল জিতেন তিওয়ারিকে৷ মালদা জেলার সভাপতি হলেন মৌসম বেনজির নূর৷ বাঁকুড়ার সভাপতি পদ পেলেন শুভাশিস বটব্যাল৷ বিষ্ণুপুরের সভাপতির দায়িত্ব পেলেন শ্যামল সাঁতরা৷ বর্ধমান পূর্বের দায়িত্ব দেওয়া হল স্বপন দেবনাথকে৷ মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি হলেন আবু তাহের খান৷

জঙ্গলমহলের মতোই উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান করা হল অমর সিং রাইকে৷ উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক হলেন অরূপ বিশ্বাস৷ শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান করা হল বিনয় বর্মণকে৷

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের চেয়ারম্যান হলেন অপূর্ব সরকার৷ HRBC-র চেয়ারম্যান করা হল দীনেশ ত্রিবেদীকে৷ মালদা জেলা সভাপতি পদের পাশাপাশি মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যানের বাড়তি দায়িত্ব পেলেন মৌসম৷ কৃষ্ণনগরের দায়িত্ব পেলেন মহুয়া মৈত্র৷ রানাঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হল শংকর সিংকে৷